২ বছরে একটি রোগীও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পায়নি

দুই বছর ধরে ঘাটে পড়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার। চালক নেই। তাই অচল নেত্রকোনার খালিয়াজুরীবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া একমাত্র নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি। বহু কাঙিক্ষত এ যানটি দিয়ে আজ অবধি একজন রোগীও পরিবহন করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালিয়াজুরী একটি বিচ্ছিন্ন হাওর দ্বীপ। জেলা সদরের সঙ্গে এ উপজেলার আজও সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। প্রায় লক্ষাধিক জন বসতি অধ্যুষিত এ উপজেলা বছরের প্রায় ছয়মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এ কারণে সড়ক পথে রোগী পরিবহন সম্ভব হয় না।

তাছাড়া সড়ক যোগাযোগ না থাকায় এ উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য অদ্যাবধি কোনো অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দও করা হয়নি। নৌপথে জরুরী রোগী পরিবহনের জন্য উপজেলাবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দাবি করে আসছিল। সর্বশেষ ২০১৭ সালে আগাম বন্যায় হাওরাঞ্চলের শতভাগ ফসলহানির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালিয়াজুরী পরিদর্শনে যান।

সে সময় স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুকূলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারস্বরূপ একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয়া হয়।

শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালিয়াজুরী উপজেলা শহরের বানিয়াপাড়া এলাকা বাসিন্দা নান্টু দাসের বাড়ির পিছনে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, দুই বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ নৌযানটি এখানেই পড়ে আছে। চালক না থাকায় এটি একদিনও ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ব্যবহার ও যত্নের অভাবে দিনেদিনে সেটি নষ্ট হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকবার এটির ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন যন্ত্র নষ্ট হওয়ায় তা ঠিক করাও হয়েছে।

খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ছানোয়ারুজ্জামান জোশেফ বলেন, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। লক্ষাধিক মানুষের এই দুর্গম উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসক থাকেনা। আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় খালিয়াজুরী উপজেলার বেশিরভাগ রোগীকে চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে অথবা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

কিন্তু বর্ষার ছয়মাস ট্রলার ছাড়া এখানকার রোগী পরিবহন সম্ভব হয় না। ট্রলারে রোগী পরিবহন করতে গিয়ে টাকা এবং সময় দু’টোরই অপচয় হয়। দুর্ভোগের শিকার হতে হয় রোগী ও তার স্বজনদের। নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি চালু থাকলে এমন কষ্ট করতে হত না।

এ ব্যাপারে চাইলে খালিয়াজুরীর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আতাউল গণি উসমানী বলেন, কমিউনিটি বেজড হেলথ কেয়ার প্রজেক্টের আওতায় এ নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এটি চালানোর জন্য চালকের কোনো পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এ কারণে কাউকে নিয়োগও দেয়া যায়নি। কিন্তু উপজেলার ভৌগলিক অবস্থা বিবেচনা করে এখানে একজন চালকের পদ সৃষ্টি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খালিয়াজুরী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কিবরিয়া জব্বার বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, স্থানীয় সাংসদ রেবেকা মমিন এর ডিও লেটার নিয়েও একজন চালকের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। নৌ অ্যাম্বেুলেন্সটি যেহেতু প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন তাই তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এটি ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি সুব্যবস্থা করবেন।

অসুস্থ থাকায় (করোনা পজিটিভ) এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. তাজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে জেলা প্রশাসক কাজি মো. আব্দুর রহমান বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকার বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।