১৬ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের আয়োজন

সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পে ১৬ কর্মকর্তাকে বিদেশ সফর করানোর প্রস্তাব দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। প্রশিক্ষণের নামে এই আয়োজন সম্পন্ন করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ লাখ টাকা। প্রত্যেক কর্মকর্তার পেছনে ব্যয় হবে ৫ লাখ টাকা করে।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে এ ধরনের বিদেশ সফরের প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব সরকারের কৃচ্ছ সাধন নীতিমালার পরিপন্থী। শুধু এই প্রকল্পেই নয়, অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষেত্রেও প্রতিনিয়ত এমন প্রস্তাব আসছে। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এছাড়া ওই প্রকল্পে পরামর্শকের পেছনে যাবে ৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে অতিরিক্ত পরামর্শক ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোসহ প্রস্তাবিত একটি খাতে পরামর্শক বিষয়ে বাধা দেয় পরিকল্পনা কমিশন। ফলে বেঁচে গেছে সরকারের ৪২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)।

আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করার কথা। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।

বিদেশ সফর প্রসঙ্গে সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান  বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একেবারেই অপরিহার্য না হলে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি আমরা কঠোরভাবে দেখছি। তবে এ কথাটি মনে রাখতে হবে যে, কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেয়া মানেই ‘ব্লাঙ্ক চেক’ দেয়া নয়।

যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের যে কোনো পর্যায়েই আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারব। অর্থাৎ কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ এলেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

বিভিন্ন অঙ্গের প্রস্তাবিত ব্যয় বিভাজন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ তদারকি পরামর্শক সেবা খাতে ৯৩৬ জনমাসের ব্যয় বাবদ ধরা হয়েছে ৬৭ কোটি ২৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এছাড়া এনজিও সেবা নিতে ৫৯৫ জনমাসের জন্য সরকারি খাতের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি টাকা। প্যানেল অব এক্সপোর্ট সেবার জন্য ৬০০ জনদিনের ব্যয় ধরা হয়েছে সরকারি খাতে ৬০ লাখ টাকা।

তবে গত বছরের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পরিকল্পনা কমিশন থেকে বলা হয়, পরামর্শকের জনমাস বা সংখ্যা পুনঃপর্যালোচনাপূর্বক যৌক্তিক পর্যায়ে হ্রাস করতে হবে। সেই আলোকে প্রস্তাবিত পরামর্শক সেবা খাতের ব্যয় প্রাক্কলন করতে হবে।

এছাড়া ‘কন্সালটেন্সি সার্ভিস ফর ভ্যালিডেশন অব ট্রাফিক মডেল অ্যান্ড রুট ফাইনালাইজেশন ফর ঢাকা ইনার সার্কুলার রোড কনস্ট্রাকশন’ খাতে প্রস্তাবিত ৪২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বাদ দিতে হবে। পরে কমিশনের এই সুপারিশ বাস্তবায়ন করে এটি বাদ দেয়ায় সরকারের বড় অঙ্কের টাকা বেঁচে যায়। তারপরও পরামর্শক খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সোমবার  বলেন, প্রস্তাবিত পরামর্শক ব্যয়টি বাদ দেয়ার বিষয়ে দুই ধরনের ঝুঁকি আছে। একটি হচ্ছে যদি কারিগরি বিবেচনায় সত্যিই এই পরামর্শক দরকার ছিল না। তাহলে পরিকল্পনা কমিশন না ধরলে পাস হয়ে যেত। বড় ধরনের অপচয় হতে পারত। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এমন প্রস্তাব যুক্ত করা হলো কেন? দ্বিতীয়টি হচ্ছে, প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের কথা না শুনলে যেহেতু প্রকল্পটি অনুমোদন করানো যাবে না। তাই বাদ দেয়া হয়েছে। এটি হয়ে থাকলে পরে দেখা যাবে প্রকল্প সংশোধনের সময় আবার ঢুকানো হতে পারে। তখন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্বিত হবে এবং ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে উভয়পক্ষের যুক্তিই খতিয়ে দেখতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী ছাড়াও উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬১৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং এআইআইবি’র ঋণ থেকে ২ হাজার ৯৭০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ ৪ লেনে উন্নীত হবে।