হেফাজতের ‘তাণ্ডবে’ খরচ না হওয়া গুলি লুকিয়ে রাখা এএসআই কারাগারে

রাজধানীতে হেফাজতে ইসলামের ‘তাণ্ডবের’ সময় মতিঝিল এলাকায় দায়িত্বরত অবস্থায় ২৪টি গুলি খরচ না করে ট্রাঙ্কে রেখে দেয়ার অপরাধে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আসাদুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৯ জুলাই) পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম মইনুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তারা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে অস্ত্র আইনে করা মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আসাদুজ্জামানকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডল তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসাদুজ্জামান বর্তমানে ডিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিমে এএসআই হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার বিপি নম্বর-৮২০২০৭৯৯১৮।

আসামির রিমান্ড আবেদন থেকে জানা যায়, ২১ জুলাই বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় রাষ্ট্রপতির প্রটোকল ডিউটির সময় শাহবাগ থানার পুলিশ গণিরোডের পুলিশ প্রটেকশন বিভাগের এটিএম বুথের পেছনে একটি ট্রাঙ্ক দেখতে পায়। ট্রাঙ্কের নিচের কিছু অংশ ভেঙে পড়লে ট্রাঙ্ক থেকে সাতটি শর্টগানের কার্তুজ বের হয়। এরপর শাহবাগ থানার পুলিশ ট্রাঙ্কটি তল্লাশি করে আরও ১৭টিসহ মোট ২৪টি কার্তুজ উদ্ধার করে।

ওই সময় ঘটনাস্থলে ট্রাঙ্কটির মালিককে খুঁজে পায়নি পুলিশ। এর পরদিন অর্থাৎ ২২ জুলাই, আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, ২০১৩ সালে তিনি মিরপুর পিওএম উত্তরে কর্মরত ছিলেন। সে বছর মে মাসে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব চলাকালীন মতিঝিল এলাকায় ডিউটির সময় সরকার থেকে দেয়া তার কাছে থাকা অস্ত্র-গুলি থেকে কয়েক রাউন্ড ফায়ার করেন।

নিয়মানুসারে ডিউটি শেষে পিওএম অস্ত্রাগারে অবশিষ্ট গুলি জমা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু আন্দোলনের সময় গুলিগুলো শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি ব্যক্তিগত ট্রাঙ্কে রেখে দেন। ২০১৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পদোন্নতি হলে তিনি তার ট্রাঙ্ক-বোর্ডিংসহ আব্দুল গণি রোডের পিসিআরের ২ নম্বর ভবনের ষষ্ঠ তলায় স্থানান্তর হন।