হামাসের আক্রমণ দেখে হামলা বন্ধ করল ইসরায়েল

তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পরস্পরের সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার পর ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার শাসক দল হামাসের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েল। কাতারের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে সোমবার (৩১ আগস্ট) জানিয়েছেন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনোয়ার।

তিনি জানান, কাতারের দূত মোহাম্মদ আল এমাদির সঙ্গে আলোচনার পর সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে (ইসরায়েলি) আগ্রাসন অবসানের সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ৬ আগস্ট থেকে প্রায় প্রতিদিনই গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, গাজা উপত্যকা থেকে নিয়মিত ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিস্ফোরক ভর্তি বেলুন পাঠানো এবং রকেট হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব বেলুনের কারণে গত কয়েক দিনে দেশটিতে চার শতাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

সীমান্তের এই উত্তেজনা নিরসনে দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে থাকে মিসরের একটি প্রতিনিধি দল। ওই আলোচনায় যুক্ত হন কাতারের দূত মোহাম্মদ আল এমাদি। তেল আবিবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি হামাস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

হামাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেলুন ও অন্যান্য হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। বিনিময়ে ১৩ বছর ধরে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মঙ্গলবার থেকে তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি পুনরায় সচল হবে।

এছাড়া গাজার ৫০ শতাংশেরও বেশি বেকারত্ব নিরসনে আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল। তবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কোনো বিঘ্ন হলে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।

তেল সমৃদ্ধ দেশ কাতারের মধ্যস্থতায় ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রথম বারের মতো ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। বেশ কয়েকবার এর মেয়াদ বাড়ানো হলেও পরে ইসরায়েলি আগ্রাসন তীব্র হয়ে উঠলে তা এক সময়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৮, ২০১২ ও ২০১৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে হামাস। আর নতুন আরেকটি যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা।