হংকংয়ের ৭৫ লাখ বাসিন্দার করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যারি লাম বলেছেন, আগামী মাস থেকে সেখানকার ৭৫ লাখ বাসিন্দার সবার করোনা পরীক্ষা শুরু হবে। শুক্রবার এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে চীন নিয়ন্ত্রিত কোম্পানির মাধ্যমে এই গণহারে করোনা পরীক্ষায় অঞ্চলটির কতসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন, সেটি পরিষ্কার নয়।

মহামারি মোকাবিলায় শুরুর দিকে সফল হলেও সম্প্রতি করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের মুখোমুখি হয়েছে হংকং। বিমানের যাত্রী, জাহাজের ক্রু এবং ব্যবসায়ী ভ্রমণকারীদেরকে করোনার কোয়ারেন্টাইনের বিধি-নিষেধের বাইরে রাখার কারণে হংকংয়ে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করছেন।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্বেচ্ছায় গণহারে করোনা পরীক্ষা শুরু হবে এবং এটি চলবে দুই সপ্তাহ ধরে বলে ঘোষণা দিয়েছেন নগরীর প্রধান ক্যারি লাম। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এখনও অনেক নীরব সংক্রমণ বিস্তারকারী রয়েছেন।

গণহারের এই পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য নগরীর বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ক্যারি লাম বলেন, আমরা যত বেশি পরীক্ষা করতে পারবো…তত বেশি অবশিষ্ট রোগী শনাক্ত করতে সক্ষম হবো। করোনা পরীক্ষায় হংকংয়ের ৫০ লাখ মানুষ অংশ নেবেন বলে সেখানকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোফিয়া চ্যান স্থানীয় একটি রেডিও’কে জানিয়েছেন।

হংকংয়ে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় জানুয়ারির শেষের দিকে। সেই সময় সেখানকার বাসিন্দারা ব্যাপক আতঙ্ক-উদ্বেগ নিয়ে প্রচুর কেনাকাটা করেন। আতঙ্কিত লোকজন ঘরে বন্দিদশা কাটাতে থাকেন। সংক্রমণের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম এবং খুব দ্রুততার সঙ্গে এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

বিদেশে থাকা বাসিন্দা এবং শিক্ষার্থীরা ফিরতে শুরু করায় স্বায়ত্ত্বশাসিত এই অঞ্চলে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ দেখা যায় মার্চে। সেই সময় বিদেশ ফেরতদের অনেকের মাঝে করোনা শনাক্ত হয়।

এর ফলে কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটতে বাধ্য হয় হংকং। কোনও বিদেশি ঢুকতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। তবে যারা সেখানকার বাসিন্দা এবং বিদেশ থেকে ফিরে আসেন; তাদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা এবং ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন পালনের নির্দেশ দেয়া হয়।

নতুন আগতদের শনাক্ত করতে ইলেক্ট্রনিক ব্রেসলাইট ব্যবহার করে তারা বাড়িতে অবস্থান করছেন কিনা তা নিশ্চিত করা হয়। এর পাশাপাশি ব্যাপকভাবে মাস্কের ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের ফলে স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ প্রায় নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় হংকং।

সেই সময় মনে হচ্ছিল- হংকংয়ের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে যাচ্ছে।চীনের বিশেষ এই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৩২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ৭৫ জন।