স্বাধীনতাকামীদের হাতে ৪ সেনা নিহত: হামলা ঠেকাতে সতর্কতা জারি করছে ভারত

স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীদের হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হওয়ার পর ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ভারতের উত্তরপূর্ব সীমান্তের স্পর্শকাতর জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর হামলা ঠেকানোর জন্য ‘এরিয়া ডোমিনেশান’ মহড়া শুরু করা হয়েছে।

নাগাল্যাণ্ডের মোন ও তুয়েনসাং এলাকায় ভারতের কাছ থেকে স্বাধীনতার জন্য গত কয়েক দশক ধরে গেরিলাদের তৎপরতা চলে আসছে। এই জায়গাগুলোতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

২৯ জুলাই মিয়ানমার-ভিত্তিক কয়েকটি স্বাধীনতাকামী গ্রুপের সদস্যটা একজোট হয়ে মনিপুরের চান্ডেল জেলঅর সাজিক তাম্পাক সীমান্ত এলাকায় আসাম রাইফেলসের টহলরত সেনাদের উপর হামলা চালায়।

এই গ্রুপগুলোর দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে যে, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের উপর ভারতের ‘ঔপনিবেশিকতার’ বিরুদ্ধে প্রচারণার অংশ হিসেবে চার সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গাগুলোর মধ্যে চান্ডেল অন্যতম।

২০১৫ সালে স্বাধীনতাকামী গ্রুপগুলোর সম্মিলিত হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৮ সেনা নিহত হয়েছিল। চান্ডেল সীমান্ত এলাকার ওপারে মিয়ানমারের ভেতরে পিপলস লিবারেশান আর্মি (মনিপুর) এবং ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশান ফ্রন্টের অন্তত দুটো বড় ক্যাম্প রয়েছে।

ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার জন্য এই ক্যাম্পগুলোকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই দুটো সংগঠনেরই এ অঞ্চলের অন্যান্য স্বাধীনতাকামী গ্রুপগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে বিপুলসংখ্যক মুসলিম মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র রাজধানী এথেন্সেই কোনো মসজিদ নেই। মুসলিমরা গ্যারেসজসহ কোনো কোনো স্থানকে নামাজের স্থান হিসেবে ব্যবহার করছিল।

কিন্তু ওইসব স্থানও বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অথচ বারবার প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও নগরীতে একটি মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে না। এর ফলে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন সেখানকার বিপুলসংখ্যক মুসলিম। এ ব্যাপারে টিআরটি ওয়ার্ল্ড একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রিসের এথেন্সে অনুমোদনহীন স্থানগুলোতে নামাজ না পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

এসব স্থানের কোনো কোনোটিতে ১৯৮৯ সাল থেকে নামাজ চলত। ফলে মুসলিমরা মারাত্মক বিপদে পড়েছেন। গ্রিসের এক মুসলিম বলেছেন, এটি আমাদের নিজ বাড়ির মতো ছিল। যেখানে আমরা প্রতিদিন পাঁচবার সালাত আদায় করেছি। এখন এটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

আমরা তাহলে এখন কোথায় যাব? গ্রিস কর্তৃপক্ষ বলছে, আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় অভিযোগ জানানোর পরেই বন্ধের আদেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যপারে খালিদ বাদার নামে এক মুসলিম বলেন, গ্রিসে মুসলিমদের বেশিরভাগ জায়গায় অনুমতির জন্য যোগ্য হিসেবে ধরা হয় না।

আর আমরা আরো ভালো কোথাও যেতে চাইলে ব্যয়বহুল ভাড়া ও বাড়িওয়ালাদের বৈষম্যমূলক আচরণ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নতুন নির্দেশের কারণে এথেন্সের ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত স্থানগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা বহু বছর ধরে গ্রিসে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও কাজ করছে। কিন্তু তারা বলছেন, অন্য জনগণের চোখে তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ পায়। একজন মুসলিম বলেন, আমরা খুব খারাপ লাগে। কারণ গ্যারেজ বা গুদামে নামাজ পড়তে কারণ সেখানে মসজিদের সুবিধা নেই।

আমাদের অবশ্যই একটি মসজিদ থাকা প্রয়োজন। এভাবে বেসমেন্টে গোপনে নামাজ পড়াটা অসম্মানের। গ্রিসের মুসলিম এসোসিয়েশনের প্রধান নামিল ইগহান্দর বলেন, আমি রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে বলে আশা করেছিলাম। আজ তারা মসজিদ না দিয়ে কবস্থানের মতো স্থান দিচ্ছেন।

আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের স্থান মসজিদকে বিদ্রুপে পরিণত করেছে। অথচ গ্রিস সর্বদা তার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যে গর্বিত করে এসেছে। কিন্তু এখানে দীর্ঘ সময় ধরে মুসলমানদের সাথে মর্যাদাহানিকর আচরণ করা হচ্ছে এবং তারা ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।