স্থায়ী কমিটিতে শূন্য চার পদ

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিতে এখনো চারটি পদ শূন্য। দলের একঝাঁক নেতা ওই পদের প্রত্যাশী। অনেকেই ভিতরে ভিতরে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। লন্ডনেও নানাভাবে যোগাযোগ করছেন কেউ কেউ। যে কোনো সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরামর্শ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ওই শূন্য চার পদ পূরণ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

দলের নির্ভরযোগ্য এক সূত্র জানান, খুব শিগগিরই অন্তত দুজন নেতাকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে দুর্দিনে যারা বিএনপি বিশেষ করে জিয়া পরিবারের পাশে ছিলেন এবং নানা প্রতিকূল পরিবেশেও দল ছাড়বেন না- এমন পরীক্ষিত নেতাই যাবেন স্থায়ী কমিটিতে। তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে আসা ত্যাগী নেতাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে তারুণ্য কিংবা জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা করা হবে না বলে জানা গেছে।

জানা যায়, স্থায়ী কমিটিতে যাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন- দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বরকত উল্লা বুলু, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও যুগ্মমহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। শিগগিরই শূন্য চার পদের দুটিতে দুজনকে নেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বরিশাল এলাকা থেকে একজন ও নোয়াখালী এলাকা থেকে একজন।

এ প্রসঙ্গে গতকাল বিকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চাইলে স্থায়ী কমিটিতে শূন্যপদ পূরণ করতে পারেন। দলে আরও বেশ কিছু শূন্যপদ রয়েছে। সেগুলোও পূরণ করতে পারেন তারা। তবে এ নিয়ে আমি কোনো আলোচনা শুনিনি।’

জানা যায়, বিএনপি স্থায়ী কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ১৯। মৃত্যুবরণ ও পদত্যাগের পর এখন স্থায়ী কমিটিতে রয়েছেন ১৫ জন। মারা গেছেন তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এম কে আনোয়ার। রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহ উদ্দিন আহমেদ। নতুন করে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

স্থায়ী কমিটির ১ নম্বর সদস্য বেগম খালেদা জিয়া শর্ত সাপেক্ষে ছয় মাসের জামিনে মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন। শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক কর্মকান্ডে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২ নম্বর সদস্য তারেক রহমান প্রায় এক যুগ ধরে লন্ডনে। অবশ্য তিনি স্কাইপ বা জুমে দলের কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। নিয়মিত স্কাইপে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যুক্ত হন। তার সভাপতিত্বেই অনুষ্ঠিত হয় বৈঠক। স্থায়ী কমিটির ১০ নম্বর সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ।

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির ১৯ নম্বর সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ পাঁচ বছর ধরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে রয়েছেন। ২০১৫ সালে বিএনপির অনির্দিষ্টকালের অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি চলাকালে তিনি নিখোঁজ হন। বেশ কয়েক মাস পর শিলংয়ে তার হদিস মিললেও অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে গ্রেফতার করে শিলং পুলিশ। পরে মামলায় জিতলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় শিলংয়েই থাকতে হচ্ছে তাকে।

শুধু স্থায়ী কমিটিতেই নয়, দলের ভাইস চেয়ারম্যানের পাঁচটি পদ ফাঁকা রয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, একজন পদত্যাগ করেছেন। এসব শূন্যপদে প্রত্যাশিত হিসেবে দৌড়ঝাঁপ করছেন বিএনপির মধ্যসারির অনেক নেতা। এ ছাড়া মৃত্যুবরণসহ নানা কারণে বেশ কয়েকটি উপদেষ্টা পদ শূন্য। নির্বাহী কমিটিতেও ফাঁকা হয়েছে বেশ কিছু পদ। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে মৃত্যু, পদত্যাগ ও বহিষ্কারের কারণে ৪০টি পদ শূন্য। এগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী  বলেন, শূন্যপদগুলো পূরণ করবেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। যথাসময়ে তা গণমাধ্যমে জানানো হবে।