স্ত্রীসহ তিন খুন; আদালতে হত্যার দায় স্বীকারের পর সৌমেনকে জেলহাজতে প্রেরণ

কুষ্টিয়ায় মা-ছেলেসহ ৩ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশের এএসআই সৌমেন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে আসমার মা হাসিনা বেগম কুষ্টিয়া সদর মডেল থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সৌমেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর সোমবার দুপুরে এএসআই সৌমেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে আদালতের বিচারক এনামুল হকের কাছে পুলিশের এএসআই সৌমেন রায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা খাতুন, আসমার আগের পক্ষের শিশু ছেলে রবিন ও আসমার ছেলে বন্ধু শাকিলকে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দেয়। এরপর আদালতের বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নিদেশ দেন। আদালতের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আদালত সূত্র জানায়, সোমবার বেলা ১টা ১০মিনিটে সৌমেনকে একটি মাইক্রোবাসে করে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় ডিবি পুলিশ কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। এরপর তাকে আদালতের বিচারক মো. রেজাউল করিমের খাস কামরায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে একই আদালতের সিনিয়র বিচারক মো. এনামুল হকের কাছে নেওয়া হয়।

বেলা ১টা ৩০মিনিট থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা তিনি সৌমেনের জবানবন্দী রেকর্ড করেন। সূত্র মতে, সৌমেন রবিবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী, তার শিশু ছেলে ও স্ত্রীর এক ছেলে বন্ধুকে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেয় এবং সে নিজেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে আদালতে স্বীকার করে।

এর আগে রবিবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার কাস্টমস মোড়ে নিজের স্ত্রী আসমা খাতুন, আসমার আগের স্বামী রুবেলের ছেলে রবিন ও স্ত্রীর ছেলে বন্ধু শাকিল হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত এএসআই সৌমেন রায়।

তার আগে ওই দিনই খুব সকালে এএসআই সৌমেন আসমাদের বাড়িতে যায় এবং আসমা ও তার ছেলে রবিনকে নিয়ে খুলনা যাবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। হত্যাকাণ্ডে সৌমেন সরকারি অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করেছে বলেও নিশ্চিত করেছে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ। সৌমেন আসমার তৃতীয় স্বামী এবং আসমা সৌমেনের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।