সৌদি আদালতের রায়ে খাশোগি পরিবারের ‘ক্ষমা’র কারিশমা

সৌদি আরবের একটি উচ্চ আদালত সেদেশের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করার দায়ে পাঁচ ব্যক্তির ফাঁসির দণ্ড লঘু করে যাবজ্জীবন কারাদাণ্ড দিয়েছে। এ ছাড়া, আরো তিন ব্যক্তি সাত থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছে।

গত বছর ওই পাঁচ ব্যক্তিকে একটি নিম্ন আদালত ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু খাশোগির পরিবার হত্যাকারীদের ‘ক্ষমা’ করে দেয়ার পর আদালত তাদের দণ্ড কমিয়ে দেয়।

আদালতের সোমবারের রায়ই চূড়ান্ত এবং এ রায়ের ব্যাপারে আর আপিল করা যাবে না। সৌদি আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত আট ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেনি।

প্রায় দুই বছর আগে তুরস্কের ইস্তাম্বুল নগরীতে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাশোগি নির্মমভাবে নিহত হন। সে সময় বিভিন্ন দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করে তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্থির সিদ্ধান্ত দিয়েছিল যে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এ হত্যকাণ্ড ঘটেছে।

এ ছাড়া, জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি অ্যাগনেস ক্যালামার্ড তার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে খাশোগিকে হত্যার ঘটনাকে ‘বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেন।তিনি এ ঘটনায় যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পর্কে অধিকতর তদন্তেরও দাবি জানান।

বিন সালমানের একান্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা খাশোগিকে হত্যা কারলেও সৌদি যুবরাজ এ হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে গত বছরের অক্টোবরে ঘোষণঅ করেন, সৌদি আরবের নেতা হিসেবে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সব দায় মাথা পেতে নিচ্ছেন!