সেনা সদস্যের রাইফেল নিয়ে বহিরাগত ইসরাইলির গুলিবর্ষণ

অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনার কাছ থেকে এম-১৬ রাইফেল নিয়ে ফিলিস্তিনি লোকজনের ওপর গুলি ছুঁড়েছে একজন বহিরাগত অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরাইলের মানবাধিকার সংগঠন বেইত সালেম এই ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে। এতে দেখা যায়, পশ্চিম তীরের আল-তুয়ানি গ্রামের একটি স্থানে সামরিক জিপে করে ওই অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ছুটে আসে এবং জিপ থেকে নেমেই ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে।

গত ২৬ জুন এই ঘটনা ঘটে। ওই দিন ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা ব্যাপক সহিংসতা চালায়। তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলিবর্ষণ, পাথর ছোঁড়া, ভাঙচুর, গাছপালা ধ্বংস ও বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ ঘটায়।

ইসরাইলের সংবাদপত্র হারেৎজ গতকাল (রোববার) প্রত্যক্ষদর্শী ফিলিস্তিনিদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, একজন ইসরাইলি সেনা ওই অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইহুদিকে তার রাইফেল দিয়েছিল গুলি করার জন্য।

গুলিবর্ষণের সময় সেখানকার একটি বাড়ির ছাদে অবস্থানকারী এক ফিলিস্তিনি জানান, “ইসরাইলি সেনা তার এম-১৬ রাইফেল দেয় এবং সামরিক জিপের পাঁচ থেকে ১০ মিটার দূরে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় আমার সাথে আরো দশটি শিশু ছিল। আমরা সবাই ভয় পেয়েছিলাম। অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইহুদি শূন্যে গুলি ছোঁড়ে নি, সে আমাদের দিকে গুলি ছুঁড়েছে।”

ওই ছাদে অবস্থানকারী আরেক ব্যক্তিও জানান, একজন ইসরায়েলি সেনা অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইহুদিকে রাইফেল দিয়েছিল। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, ওই অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইসরাইলি একজন সেনার কাছ থেকে রাইফেল নিয়েছিল তবে সে ফাঁকা গুলি করেছে।

ভিডিওতে আরো দেখা যায়, ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতিতেই ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের গাছপালা ধ্বংস করছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং জেরুজালেম আল-কুদস শহরে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইল অন্তত ২৩০টি বসতি গড়ে তুলেছে যেখানে ছয় লাখ ইসরাইলি বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এই সমস্ত বসতি অবৈধ।

সূত্রঃ পার্সটুডে