সেনাবাহিনীর ওপর হামলা বন্ধের ঘোষণা মিয়ানমারের সশস্ত্র দলের

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও জানমালের ক্ষতি ঠেকাতে স্থানীয়দের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংঘাতপূর্ণ কাইয়াহ রাজ্যে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির গণতন্ত্রপন্থি সশস্ত্র একটি দল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সশস্ত্র সংগঠন দ্য কারেন্নি ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (কেএনডিএফ) এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিবৃতিতে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, ‘জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছে কেএনডিএফ।

মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় সশস্ত্র দলগুলোর একটি কেএনডিএফ। সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষে স্থানীয়দের ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ১ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়। কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলে সেনাবাহিনীর ভারী অস্ত্র ব্যবহারের নিন্দা জানিয়ে সশস্ত্র দলগুলোর প্রতি সাধারণের ক্ষতি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এর আগে গণতন্ত্রপন্থি পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জান্তা সরকারের আহ্বানে সাড়া দেয়। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা অব্যাহত রাখায় সাধারণ মানুষ ঝুঁকিতে পড়েছে। গত মে মাসে সশস্ত্র দল পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস গঠন করার ঘোষণা দেয় দেশটির স্বঘোষিত জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি)। তাদের বেশির ভাগের সম্বল কেবল শিকারের বন্দুক। গ্রেফতার বিক্ষোভকারীদের মুক্তির দাবিতে সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল দলটি।

গত নভেম্বরের নির্বাচনে ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) বড় ধরনের জয় পেয়েছে অভিযোগ করে ১ ফেব্রুয়ারি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা এই অভিযোগ নাকচ করে আসছেন। কিন্তু মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নোবেল বিজয়ী ৭৫ বছর বয়সি সু চি ছাড়াও প্রায় ৪ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছে সামরিক বাহিনী।