সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ অফিসার মুর্শেদুল হাসান বরখাস্ত

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. মুর্শেদুল হাসান নামে এক বেঞ্চ অফিসারকে বরখাস্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০১৮ সালে করা বিভাগীয় মামলায় তদন্ত শেষে বেঞ্চ অফিসার সোহেলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে আজ সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ অফিসার মুর্শেদুল হাসানকে তার রুজুকৃত ০৯/২০১৮ নং বিভাগীয় মামলায় আনিত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় আজ (রোববার) হাইকোর্ট বিভাগের চাকরি বিধিমালা ১৯৮৩ এর ৪ (১) (জি) বিধিমতে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হয়।

সূত্র জানায়, গত ৬ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে রানা মণ্ডল নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে। এ সময় তার কাছে ১০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে রানা জানান, এই ইয়াবা তিনি মিরপুর এলাকার ‘মাদক সম্রাট’ মো. মুর্শেদুল হাসানের কাছ থেকে কিনে এনেছেন।

ওই আসামির দেয়া তথ্যর ভিত্তিতে পরে যাত্রাবাড়ী থানা ও মিরপুর থানার পুলিশ ওই দিনই অভিযান চালায় মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগের ৩১৫ নম্বর বাড়ির (তাসমিম বিজয় অ্যাপার্টমেন্ট) চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে।

সেখানে গিয়ে ফাতেমা ইসলাম চাঁদনী নামের আরেক খুচরা মাদক বিক্রেতাকে পায় পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আর মো: মুর্শেদুল হাসানের কাছে পাওয়া যায় ৬০০ পিস ইয়াবা। পরে দুজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে মুর্শেদুল হাসান মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িয়েছেন কয়েক বছর আগে। গত বছরও তাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু এক দিনের বেশি তাকে আটকে রাখা যায়নি। এবার তাকে গ্রেফতারের পর মিরপুর থানার পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। কিন্ত রিমান্ড মঞ্জুর হয়নি।

তবে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ইয়াবা বিক্রির টাকায় মুর্শেদুল হাসান দুটি বিলাসবহুল গাড়ির মালিক। এর মধ্যে গত কোরবানির ঈদের আগে ৯৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কিনেছেন, যেটির ওপর এখনো নম্বর প্লেট পড়েনি।

পুলিশের ধারণা, তার বিপুল টাকা থাকতে পারে। সোহেলের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার সাহেবগঞ্জ এলাকায়। তাঁর বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক। তিনি এখন বৃদ্ধ।