সীমান্ত সংঘর্ষ: অসমের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

ভারতের অসম ও মিজোরাম রাজ্যের মধ্যে সীমান্ত বিবাদ ও সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে মিজোরাম পুলিশ অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা, রাজ্যের চারজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা এবং অন্য দু’জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে। আজ (শনিবার) হিন্দি গণমাধ্যম ‘আউটলুক’ওই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতের অসম ও মিজোরাম রাজ্যের মধ্যে সীমান্ত বিবাদ ও সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে মিজোরাম পুলিশ অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা, রাজ্যের চারজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা এবং অন্য দু’জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে। আজ (শনিবার) হিন্দি গণমাধ্যম ‘আউটলুক’ওই তথ্য জানিয়েছে।

মিজোরামের পুলিশ মহাপরিদর্শক (সদর দফতর) জন নেহলাইয়া বলেন, এ সকল লোকদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্ত শহরের কাছে মিজোরাম এবং অসম পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের পরে সোমবার গভীর রাতে রাজ্য পুলিশ বৈরেঙ্গতে থানায় এফআইআর দায়ের করেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশ, অসম পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) অনুরাগ আগরওয়াল, কাছাড়ের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) দেবচার্য মুখোপাধ্যায়, কাছাড়ের পুলিশ সুপার চন্দ্রকান্ত নিম্বলকর এবং ধোলাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সাহাবুদ্দিন। এছাড়া, কাছাড়ের জেলা প্রশাসক কীর্তি জাল্লি ও কাছাড় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সানিদেব চৌধুরীর বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে অসম পুলিশের ২০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীসহ সবাইকে ১ আগস্ট থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে।

এরআগে অসম পুলিশ মিজোরামের ৬ কর্মকর্তাকেও সমন পাঠিয়েছে। তাদের সকলকে আগামী ২ আগস্ট ধোলাই থানায় উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। গত ২৬ জুলাই অসম-মিজোরাম সীমান্ত সংলগ্ন লায়লাপুরে মিজোরাম পুলিশ অসমের কর্মকর্তাদের একটি দলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে অসমের পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং একজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। ভয়াবহ ওই ঘটনায় পুলিশের এসপিসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। ওই সংঘর্ষের পরে উভয় রাজ্যের সীমান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে।

মিজোরামের পক্ষ থেকে মিজোরামের বৈরেঙ্গতে জেলায় প্রবেশ এবং কোভিড প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং মিজোরাম কনটেনমেন্ট অ্যান্ড প্রিভেনশন অব কোভিড-১৯ অ্যাক্ট ২০২০-তে মামলা রুজু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা এবং অন্যদের ১ আগস্ট থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, অসমের পক্ষ থেকে রাজ্যের নাগরিকদের প্রতিবেশি রাজ্যে সফর না করতে বলার জন্য নিন্দা জানিয়েছে মিজোরাম। অসমের স্বরাষ্ট্রসচিব এম এস মনিভান্ননের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অসমের জনগণকে মিজোরাম সফর না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ এটা মেনে নেওয়া যায় না যে আসামের জনগণের কোন বিপদ হোক।

মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা বলেছেন, উত্তর-পূর্ব ভারত সর্বদা এক থাকবে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আসাম-মিজোরাম সীমান্ত উত্তেজনার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান আশা করছি বলেও মন্তব্য করেন।

সূত্রঃ পার্সটুডে