সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপে পুতিনকে উৎসাহী করেন সৌদি যুবরাজ

সিরিয়া সংঘাতে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অব্যাহতভাবে উৎসাহী করেছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। রিয়াদের সরকারি নথিপত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাবেক সৌদি গোয়েন্দা প্রধান এ দাবি করেছেন।

সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সাদ আল জাবরি ক্রাউন প্রিন্সের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। জাবরি ২০১৫ সালে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জন ব্রেনানের সঙ্গে দুটি সরকারি বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

ওই বছরের জুলাইতে জাবরি এবং ব্রেনানের মধ্যে প্রথম বৈঠকটি হয়। বৈঠকে পুতিন এবং ব্রেনানের সঙ্গে বিন সালমানের সাম্প্রতিক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সিরিয়া সংঘাতে রাশিয়াকে উৎসাহ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে উদ্বেগের বিষয়টি ক্রাউন প্রিন্সকে অবহিত করা হলে তিনি বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দেখান।

পরের মাসে জাবরি এবং ব্রেনানের দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিআইএ প্রধান বলেন, ইয়েমেনে যুদ্ধে রিয়াদের হস্তক্ষেপের জেরে সৌদিবিরোধী বিক্ষোভের কারণে আল জাবরি পদত্যাগ করলেও তাকে সহযোগিতা দেবে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

সেপ্টেম্বরের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সমর্থনের দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে রাশিয়া।

কানাডায় নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন আল জাবরি। বিন সালমানের বিরুদ্ধে করা মামলায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে অক্টোবরের মাঝামাঝিতে তাকে হত্যার জন্য বিশেষ টিম পাঠান ক্রাউন প্রিন্স। সৌদির ভাড়া করা কিলার গ্রেুপের নাম দেয়া হয় টাইগার স্কোয়াড। ওই সময় কানাডার টরেন্টোতে প্রবেশ করতে গেলে হত্যাকারী দলটিকে প্রতিহত করে দেশটির বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেটে হত্যার দু’সপ্তাহের মধ্যেই আল জাবরিকে হত্যা চেষ্টা করা হয়। খাশোগি হত্যার পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে। সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দ হয়ে উঠে সৌদি আরব এবং দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

মামলার তথ্যানুযায়ী ২০১৫ সালে সিরিয়া সংঘাতে যুক্ত হতে রাশিয়াকে উৎসাহ দেন বিন সালমান। রিয়াদের এ তৎপরতার মধ্যদিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া সম্পর্কে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বিদেশিনীতি সম্পূর্ণ ঘুরে যায়। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শুরুতে বিদ্রোহী কয়েকটি গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতো সৌদি আরব।

কাকতালীয়ভাবেই বিদ্রোহীদের দেয়া সমর্থন প্রত্যাহার করা হয়। সৌদির সাবেক বাদশাহ আবদুল্লাহর মুত্যর পর দেশটির ক্ষমতায় আসেন ক্রাউন প্রিন্স এবং তার বাবা বাদশাহ সালমান। সিরিয়া বিষয়ে সৌদি আরবের এমন পশ্চাদপসরণের পর দামেস্ক ইস্যুতে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেয় অধিকাংশ উপসাগরীয় দেশ।