সিরাজগঞ্জে হিন্দু যুবকের লালসার শিকার মাদরাসাছাত্রী, ৩ দিন পর উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে হিন্দু যুবক উজ্জল কুমারের লালসার শিকার হয়েছেন এক মাদরাসাছাত্রী। উজ্জল কুমার ওই ছাত্রীকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত মঙ্গলবার মেয়েটিকে নিয়ে পালায় ওই হিন্দু যুবক। পরে পুলিশ শুক্রবার রাতে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। শনিবার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। হিন্দু যুবক উজ্জল কুমার বেলকুচি উপজেলার দক্ষিণ বানিয়াগাতি গ্রামের লংকেশ সরকারের ছেলে। তার এ অপকর্মে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার দুপুরে পুলিশ ও ভিকটিমের পরিবার সুত্রে জানা যায়, লালসার শিকার ওই মাদরাসাছাত্রী এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে পরিচয় হয় হাসপাতালের হেল্প কেয়ার অ্যাটেন্ডেন্ট উজ্জল কুমার সরকারের সাথে।

রোগীর বাড়ি অন্য জেলায় হওয়ায় উজ্জল প্রায়ই নানা তথ্য আদান প্রদান করতেন তার কাছে। একপর্যায়ে উজ্জল কুমার নিজেকে মুসলিম পরিচয় দিয়ে ওই ছাত্রীর সাথে প্রেমের অভিনয় শুরু করেন। পরে ওই হিন্দু যুবক জানতে পারে ওই ছাত্রীর বাবা প্রবাসী। পরে ১৬ বছর বয়সী ওই মেয়েটিকে নানা প্রলোভন দিয়ে গত মঙ্গলবার এনায়েতপুর নিয়ে এসে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় মেয়ের মা বৃহস্পতিবার রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৯৮৮) করেন। পুলিশ শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। শনিবার দুপুরের দিকে মেয়েটিকে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এদিকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আলোচিত এ ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে গেল বলে এলাকাজুড়ে আলোচনা চলছে।

হাসপাতালের হেল্প কেয়ার অ্যাটেন্ডেন্ট সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার পর থেকে উজ্জলের চাকরি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় যুবককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মেয়ের মামা নুর আলম সাংবাদিকদের জানান, অন্য জেলা থেকে চিকিৎসা নিতে এসে লম্পট উজ্জলের সাথে আমার ভাগনির পরিচয় হয়। পরে মোবাইলে ডেকে এনে তিন দিন আটকে রেখে তাকে যৌন নির্যাতন করেছে। আমরা অসহায় মানুষ, দূর থেকে এসেছি। এলাকার কিছু লোকের সহায়তায় থানা থেকে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে এসেছি। এ ঘটনায় দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

তবে এনায়েতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান জানান, থানায় সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে মেয়েটিকে ঘটনার তিন দিন পর উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। পরে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা না করায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। মেয়েটিকে পরিবারের হেফাজতে দেয়া হয়েছে।