সিনহা হত্যা: ওসি প্রদীপসহ ৩ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা তিন আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। এখনও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মোকাম্মেল হোসেন  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারা ফটকে জেল কোড অনুযায়ী আসামিদের এনে হত্যাকান্ড সম্পর্কে বক্তব্য গ্রহণ করে তদন্ত কমিটি।

মোকাম্মেল হোসেন জানান, তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বেলা ১১টার দিকে তদন্ত দল কারাগারের ফটকে অবস্থান করে আসামিদের পৃথক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতের কাছ থেকে হত্যাকান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চায় তদন্ত দল।

এর পর বহিষ্কৃত কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া এবং সন্দেহজনক আসামি নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াছ র‌্যাব হেফাজতে রিমান্ডে থাকায় আইও এর সহয়তায় এ সাত আসামির বক্তব্য নেয়া হবে।

তাদের সাক্ষ্য নিতে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, কক্সবাজারের জেল সুপার মোহাম্মদ মোকাম্মেল হোসেন, সিনহা মো. রাশেদ হত্যায় তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস এর করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক সিনিয়র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তদন্ত কমিটি থেকে এ বিষয়ে পত্র দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের বেঁধে দেয়া সময় আগামী ২৩ আগস্ট রোববারের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার টার্গেট নিয়ে তদন্ত কমিটি পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এ পর্যন্ত প্রত্যক্ষদর্শী ৯ জন এবং সংশ্লিষ্ট ৬০ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটিকে দেয়া গাইডলাইন অনুযায়ী, ঘটনার উৎস, ঘটনার কারণ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হবে।

গত ২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে গঠন করে দেয়া তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, লে. কর্নেল মোহাম্মদ সাজ্জাদ, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাকির হোসেন ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহা. শাজাহান আলি।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি মামলা করে। আর রামু থানায় একটি মামলা করা হয়।

পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন- টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এএসআই লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা ও এসআই টুটুল। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক।

এর মধ্যে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া পুলিশের চার সদস্য এবং এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষীকে গত শুক্রবার থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে র‌্যাব।

যাদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে তারা হলেন- এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী মো. নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াছ।