সিনহা হত্যার এক মাস: ‘কী-কেন-কিভাবে’ প্রশ্নেই আটকে পুরো তদন্ত

একমাসেও খোলেনি অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলার জট। ঘটনা খোলাসায় ‘কী -কেন-কিভাবে’ প্রশ্নেই আটকে আছে গোটা তদন্ত। মামলার মূল আসামি লিয়াকতসহ চারজন এখন পর্যন্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও অন্য আসামিরা রয়েছেন র‌্যাবের রিমান্ডে।

তবে মামলার সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানান। আসামিদের কয়েক দফা রিমান্ডে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই বাছাইয়ের পরই দেয়া হবে চার্জশিট।

একই পথ, একই নিরাপত্তা চৌকি। পুরো মেরিনড্রাইভে এক ধরনের নিস্তব্ধতা। জেগে শুধু নিরাপত্তা চৌকিগুলো।

গত ৩১ জুলাই শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে ইন্সপেক্টর লিয়াকতের গুলিতে মারা যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান। এ ঘটনায় ৫ আগস্ট কক্সবাজার জুডিশিয়াল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

 

র‍্যাবের তদন্তে উঠে আসে মাত্র দু মিনিটে ঘটেছিলো মেজর সিনহা হত্যার ঘটনা। ঘটনার মোড় ঘুরতে থাকে পুলিশের উল্লেখিত এজাহার, সাজানো সাক্ষী এবং জব্দ তালিকায় কাটছাটকে কেন্দ্র করে। ঘটনাস্থলে এপিবিএনের সদস্যরা জানান, ঘটনার আগে প্রায় শিকারীর চরিত্রে ছিলেন লিয়াকত। কোণঠাসা করে ফেলা হয় তিন এপিবিএন সদস্যকে।

প্রশ্ন ওঠে আদৌ অবসর প্রাপ্ত মেজর সিনহার হাতে অস্ত্র ছিলো কিনা এবং কেন লিয়াকত গুলি করলেন? মাত্র ক’ মিনিটে ঘটা লিয়াকতের গুলিতে নিহতের ঘটনার পোস্টমর্টেম চলছে পুরো মাস জুড়ে। অন্যদিকে যার গুলিতে সিনহা নিহত হন সেই ইন্সপেক্টর লিয়াকত তৃতীয় দফার রিমান্ডে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এদিকে একমাসেও প্রদীপের দেখা পায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, ৬৮ জনের একটি তালিকা আমরা করেছিলাম। তার মধ্যে ৬৭ জনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করেছি। আমাদের রিপোর্ট প্রস্তুতির পর্যায়ে। আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় প্রতিবেদনটি এখনো অসম্পূর্ণ।

অন্যদিকে সিনহা হত্যা মামলায় বাকি চার পুলিশ সদস্য ও পুলিশের সাজানো তিন সাক্ষী এখনো দ্বিতীয় দফার রিমান্ড গুনছেন।