সামরিক শক্তিতে ইসরায়েলের চেয়ে কতটা এগিয়ে ইরান?

লেইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ‘শত্রুতা’ দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাদের মধ্যকার দূরত্ব শুধু বেড়েই চলেছে। বর্তমানে দুটি দেশই করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইরানে প্রতিদিন প্রায় একশোরও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েও ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। পাশাপাশি কোয়ারেন্টিনে আছে হাজার হাজার সেনা।

দেশ দুটি করোনায় আক্রান্ত হলেও এর মধ্যেই তাদের সংঘাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বেশিরভাগ ইসরায়েলি বিশ্লেষক এ আশঙ্কা করছেন। তাদের মতে, হাজার হাজার ইসরায়েলি সেনা কোয়ারেন্টিনে আছেন। ফলে ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মূলত এটিরই সুযোগ নিতে পারে ইরান, চালাতে পারে বড় ধরনের হামলা।

অবশ্য ইরান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরান-ইসরায়েলের এই দ্বন্দ্বের মধ্যে যে বিষয়টি সামনে আসছে তা হলো সামরিক ক্ষমতা। এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ পরিসংখ্যানে অবশ্য ইসরায়েলের চেয়ে বেশ এগিয়ে আছে ইরান। হয়তো এ কারণেই তেহরানের হামলার ভয়ে থাকে তেল আবিব। এমনকি ভয়াবহ এই করোনা ভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেও ইরানি হামলার ভয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না তারা।

বৈশ্বিক সামরিক ক্ষমতা বিশ্লেষণকারী সংস্থা গোব্লাল ফায়ারপাওয়ার বলছে, বর্তমানে সামরিক ক্ষমতায় ইসরায়েলের চেয়ে ৪ ধাপ এগিয়ে আছে ইরান। ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক ক্ষমতার তালিকায় ইরানের অবস্থান ১৪ নম্বরে এবং ইসরায়েলের অবস্থান ১৮ নম্বরে।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের হিসাব বলছে, স্থলবাহিনীতে ইরানের ২ হাজার ৫৬টি ট্যাংক, ৪ হাজার ৩০০টি সাঁজোয়া যান, ৫৭০টি সেলফ প্রোপেলড আর্টিলারি, ২ হাজার ৮৮টি টোড আর্টিলারি ও ১ হাজার ৯৩৫টি রকেট প্রজেক্টরস আছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের ২ হাজার ৭৬০টি ট্যাংক, ১০ হাজার ২৭৫টি সাঁজোয়া যান, ৬৫০টি সেলফ প্রোপেলড আর্টিলারি, ৩০০টি টোড আর্টিলারি ও ১০০টি রকেট প্রজেক্টরস আছে।

নৌবাহিনীতে ইরানের ৭টি ফ্রিগেট, ৩৪টি সাবমেরিন, ৩৪২টি টহল যান ও ৮টি মাইন ওয়ারফেয়ার আছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের নৌবাহিনীতে শুধু ৫টি সাবমেরিন ও ৪৫টি টহল যান আছে। ইরানের বিমানবাহিনীতে রয়েছে ১৫৫টি যুদ্ধবিমান, ৯৪টি প্রশিক্ষণ বিমান, ১০০টি হেলিকপ্টার ও ১২টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার। অন্যদিকে ইসরায়েলের ২৫৯টি যুদ্ধবিমান, ১৫৪টি প্রশিক্ষণ বিমান, ১৪৬টি হেলিকপ্টার ও ৪৮টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার রয়েছে।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার বলছে, বিমানবাহিনীতে ইসরায়েলের চেয়ে কিছুটা দুর্বল ইরান। তবে স্থল ও নৌবাহিনীতে বেশ এগিয়ে আছে তারা। ফলে সম্মিলিত সামরিক শক্তিতে তেল আবিবের চেয়ে চার ধাপ এগিয়ে আছে তেহরান। অবশ্য সামরিক ক্ষমতার এই তালিকা করতে পারমাণবিক অস্ত্রের হিসাব বিবেচনায় নেয়নি গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার।