সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আবারও উত্তাল বেলারুশ

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে আবারও বিক্ষোভ করেছেন সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর পদত্যাগের দাবিতে গেল দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে রোববার অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ।

বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই এদিন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় বিক্ষোভ কর্মসূচি। এদিকে, বেলারুশের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে প্রতিবেশী চেক প্রজাতন্ত্র এবং লিথুয়ানিয়াতেও।

পুলিশি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রোববার সকাল থেকেই বেলারুশের রাজধানী মিনস্কের স্বাধীনতা চত্ত্বরে জড়ো হন কয়েক হাজার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী। নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে থেকেই হাতে সরকার বিরোধী লাল-সাদা পতাকা ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রেসিডেন্টবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন তারা। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য।

এসময়, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে আবারও অবিলম্বে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করেন বিক্ষোভাকারীরা।

বিক্ষোভকারীরা জানান, আমরা এখানে এসেছি এই বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানাতে। যেকোন দাবি আদায়ে সবার আগে প্রয়োজন একে অপরের পাশে দাঁড়ানো।

 

এক বিক্ষোভকারীরা জানান, যেভাবে বিক্ষোভকারীদের দমন করা হয়েছে; তাতে আমি শঙ্কিত। আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হবে।

বিশাল এই বিক্ষোভ সমাবেশ সচক্ষে দেখতে এদিন হেলিকপ্টারে করে পুরো এলাকা প্রদক্ষিণ করেন প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো। যদিও, এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি তিনি।

এদিকে, সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভের সমর্থনে নববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রতিবেশী ইউক্রেন, চেক প্রজাতন্ত্রে এবং লিথুয়ানিয়ায়। এতে, অংশ নিতে দেখা গেছে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার হাজার হাজার মানুষকে।

গত ৯ আগস্ট দেশটির সাধারণ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে অবিলম্বে তা বাতিল করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর পদত্যাগের দাবিতে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে শুরু হয় সহিংস বিক্ষোভ। এতে, হতাহত হন বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী। পরবর্তীদের তীব্র আন্দোলনের জেরে প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো সংবিধান সংশোধন পূর্বক নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান তিনি।