সন্ত্রাসে মদদের পরিণতি সম্পর্কে মার্কিন সরকারকে ইরানের হুঁশিয়ারি

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি বলেছেন, আমেরিকায় বসে যেসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়ন করে তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার দায় মার্কিন সরকারকে নিতে হবে।

তিনি শনিবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে আমেরিকা-ভিত্তিক ইরানবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তোন্দারের প্রধান জামশিদ শরমাহ্‌দকে আটকের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে এ মন্তব্য করেন।

এই সন্ত্রাসী চক্রের হোতাকে আটক করায় মুসাভি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মার্কিন সরকার নিজেকে ইরানি জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। অথচ মার্কিন সরকারই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে এই দেশের জনগণের চিহ্নিত হত্যাকারী গোষ্ঠীগুলোকে সব রকম আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আমেরিকার এই চরম দ্বৈত নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তোন্দারসহ আমেরিকার মাটিতে বসে ইরানে সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক তৎপরতা চালানো প্রতিটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সব অপরাধের দায় ওয়াশিংটনকে নিতে হবে।

এর আগে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় শনিবার শেষ বেলায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমেরিকা-ভিত্তিক ইরানবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘তোন্দার’-এর প্রধান জামশিদ শরমাহ্‌দকে আটক করেছে তেহরান।

শরমাহ্‌দ ২০০৮ সালে ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের প্রধান শহর শিরাজের সাইয়্যেদুশ শোহাদা হোসেইনিয়ায় বোমা হামলার পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়ন করে। ওই সন্ত্রাসী হামলায় ১৪ জন নিহত ও ২১৫ জন আহত হন। এ ছাড়া, গত কয়েক বছরে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইরানে বহু সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে যেগুলো ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতার কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

ইরানে ইসলামী বিপ্লবের আগে ও পরে মার্কিন সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সন্ত্রাসী তৎপরতার তালিকা অত্যন্ত দীর্ঘ। কথিত এমকেও নামের সন্ত্রাসী মুনাফিকিন গোষ্ঠীসহ নানা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইরানের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা ও অন্তত ১৭ হাজার নিরপরাধ সাধারণ ইরানিকে হত্যা এবং যাত্রীবাহী বিমানের শত শত আরোহীকে হত্যার মত জঘন্য সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত মার্কিন সরকার।

এ ছাড়াও ইরাকের সাদ্দামকে দিয়ে ৮ বছরের যুদ্ধে লাখ লাখ ইরানিকে ও সম্প্রতি সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধের কিংবদন্তীতুল্য সফল নায়ক জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার দায়ও বহন করছে খুনি মার্কিন সরকার ও তাদের রক্তাক্ত হাত। বিখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক সিইমুর হার্শ ২০০৮ সালে এটা ফাঁস করেন যে আবদুল মালেক রিগির সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সর্বাত্মক মদদদাতা ও সহযোগী ছিল মার্কিন সরকার।

তাই ইরান মনে করে মার্কিন সরকারকে এইসব সন্ত্রাসের দায়-দায়িত্ব স্বীকারের পাশাপাশি এসবের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। মার্কিন সরকার তার সন্ত্রাসবাদী তৎপরতার জন্য বিশ্বে এখন সবচেয়ে ঘৃণিত সরকারগুলোর মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে।