সংক্রমণ বাড়ায় দ. কোরিয়ার স্কুল বন্ধ, করোনার ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সতর্কতা

দক্ষিণ কোরিয়া রাজধানী সিউলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সব স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সিউলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২শ’ কর্মী ও শিক্ষার্থীর দেহে প্রাণঘাতী ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

দেশটিতে শিগগিরই ফের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ সতর্কও করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই কোটি বাসিন্দা অধ্যুষিত সিউলের শিক্ষার্থীরা এখন থেকে অনলাইনে ক্লাস করবে। তবে আগামী ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া হাই স্কুলের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা এ নির্দেশনার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমতে থাকায় চলতি বছরের ২০ মে থেকে ১ জুনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার বেশিরভাগ স্কুলই খুলে দেয়।

 

ভাইরাসের সংক্রমণ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারায় কিছুদিন আগেও দক্ষিণ কোরিয়াকে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় অন্যতম সফল দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে বৃহত্তর সিউল অঞ্চলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দেশটিতে আরও ২৮০ জনের দেহে প্রাণঘাতী ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানা গেছে।

নতুন গুচ্ছ সংক্রমণের অধিকাংশের সঙ্গেই বেশ কয়েকটি ডানপন্থী প্রোটেস্টান গির্জার সংযোগ পাওয়া গেছে, গির্জাগুলোর সদস্যরা সপ্তাহখানেক আগে সিউলে একটি বিশাল শোভযাত্রাও করেছিলেন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিউলের কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো জনসমাগম হয় এমন বদ্ধ ও খোলামেলা জায়গায় সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশনা দিয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে গির্জা, নৈশ ক্লাব ও বার।

সংক্রমণ আরও বাড়লে কঠোর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার।