শাহেদ-সাবরিনার পরে মিলল আরো এক প্রতারক

শাহেদ-সাবরিনার মতো আরো এক প্রতারকের খোঁজ মিলেছে সিলেটে। ডাক্তার শাহ আলম নামের এই ভুয়া চিকিৎসক নমুনা পরীক্ষা না করে টাকার বিনিময়ে বিদেশযাত্রীদের দিতেন ‘নন কোভিড সার্টিফিকেট’।

আবার ওসমানী মেডিকেলের ডাক্তার না হয়েও ভুয়া পরিচয়দানকারী করোনা ভিলেন এই ডাক্তারের ঠাঁই হয়েছে কারাগারে।

ডা. এ এইচ এম শাহ আলম নগরীর মধুশহীদ এলাকায় মেডিনোভা, সিলেট শাখার নিচতলায় চেম্বার করেন। বিদেশযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন দেশ ও এয়ারলাইন্স করোনা নেগেটিভ সার্টিফেকেট বাধ্যতামূলক করার পর প্রবাসীদের টার্গেট করেন ডা. শাহ আলম।

বিদেশযাত্রীদের টার্গেট করে প্রতি কোভিড ১৯ সার্টিফিকেটের জন্য নেন চার হাজার টাকা। লিখে দেন কোভিড ১৯-এর কোনো উপসর্গ নেই।

মেডিনোভার কর্মকর্তার দাবি, এখানে কোনো কোভিড-১৯ এর টেস্ট করা হয় না। শাহ আলম যা করেছেন তার দায় তার।

মেডিনোভা ব্যবস্থাপক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, একজন ডাক্তার তার প্রেসক্রিপশনে কি লিখবেন সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু এই ধরনের কাজ আমাদের অগোচরে হলে মেডিনোভা তো এর জন্য দায়ী নয়।

 

এদিকে, নিজের পরিচয়ের ক্ষেত্রেও প্রতারণার আশ্রয় নেন ডা. শাহ আলম। তার নিজের পদবী লেখেন ‘মেডিকেল অফিসার, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল’। কিন্তু তিনি সেখানে চাকরি করেন না। এটা প্রতারণা বলে জানায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহকারি পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, এরকম কোনো ডাক্তার ওসমানীতে কাজ করে না।

 

অন্যদিকে, সিলেটের জেলা প্রশাসক জানালেন, এ ধরণের প্রতারণার খবর আরও আছে। প্রতারক ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রশাসক এম কাজি এমদাদুল ইসলাম বলেন, আমরা খোঁজ-খবর রাখছি। এই কাজ অব্যাহত থাকবে।

গত রোববার নগরের মেডিনোভায় ডা. শাহ আলমকে সাথে নিয়ে তার চেম্বারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায়ের নেতৃত্বে অভিযান চালায় র‌্যাব-৯ এর একটি দল। এরপর র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে ৪ মাসের জেল এক লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি অনাদায়ে আরও ১ মাসের জেলা দেয়া হয়।