লেবাননে সরকার গঠনে ‘ফরাসি প্রেসক্রিপশন’, জরুরি পার্লামেন্ট অধিবেশন কাল

নানামুখী সংকটে লেবানন। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিপর্যস্ত অবস্থা। এমন অবস্থায় লেবাননে কেমন সরকার হবে তার নিয়ম-পন্থা বাতলে দিল ফ্রান্স।

ইউরোপের প্রভাবশালী এই দেশটি লেবাননের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকটা তুলে ধরেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ লেবাননের নানা সংকট ও বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বৈদেশিক সহায়তার দ্বার উন্মুক্ত করার আগে দেশটির রাজনৈতিক সংস্কারে বারবার তাগিদ দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বৈরুতে একটি আউটলাইনও পাঠিয়েছেন তিনি। দুই পৃষ্ঠার সেই ‘প্রেসক্রিপশন’ এখন লেবানিজ নেতাদের হাতে। শুধু আউটলাইনই নয়, পুরো বিষয়টি একেবারে কাছ থেকে তদারক করতে চান মাক্রোঁ ।

এজন্য সরকার গঠনের সময় রাজধানী বৈরুতেই থাকবেন তিনি। সরকার গঠন, নতুন প্রধানমন্ত্রী বাছাই ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে আগামীকাল সোমবারই পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশনে বসছে লেবানন। বৈরুত বিস্ফোরণের জেরে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে পদত্যাগ করে দেশটির সরকার।

চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজধানী বৈরুতের সমুদ্রবন্দরে ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফেরণের পর থেকেই লেবানন নিয়ে অতি তৎপর প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ। বিস্ফোরণের দু’দিন পরই বিশ্বের প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে লেবানন সফর করেন এবং অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে শর্ত দেন, লেবাননকে অবশ্যই সরকার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবশ্যই সংস্কার আনতে হবে। এরপর সহায়তার অর্থ সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের উদ্যোগে একটি দাতা সম্মেলনও করেন তিনি।

জানিয়েছে, সরকার গঠন ও অন্যান্য সংস্কারের লক্ষ্যে বৈরুতে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে দুই পৃষ্ঠার একটি ‘কনসেপ্ট পেপার’ পাঠিয়েছেন মাক্রোঁ। লেবাননের একটি সূত্রও বিষয়টি স্বীকার করেছে।

প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্টের অফিসের একটি সূত্র বলেছে, লেবাননের প্রেসিডেন্টে মিশেল আউন ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার নবিহ বেরির কাছে একটি নথি হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ওই নথিটিকে ‘অনানুষ্ঠানিক’ এবং ‘রোডম্যাপ’ টাইপের কিছু নয় বলে দাবি করেছে এলিসি প্রাসাদ।