লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ১ বাংলাদেশি আহত

বাংলাদেশের উত্তরের জেলা লালমনিরহাটের দহগ্রাম ইউনিয়নের আঙ্গরপোতা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই ব্যক্তির নাম উমর ফারুক (৩২)। সে আঙ্গরপোতা গ্রামের বাসিন্দা।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন প্রধান জানিয়েছেন, ভারতীয় ৪৫ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ভোটবাড়ি ক্যাম্পের টহল দলের এক সদস্য বাংলাদেশের প্রায় এক শ’ গজ অভ্যন্তরে ঢুকে গুলি ছুড়লে উমর ফারুক আহত হন। ফারুকের সঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে রাতেই চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে গেছেন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উমর ফারুকসহ সাত-আটজনের গরু পাচারকারী একটি দল আঙ্গরপোতা প্রধানপাড়া সীমান্তের ডিএমপি ১ নম্বর মেইন পিলারের কাছ দিয়ে ভারতের কোচবিহার জেলার মেকলিগঞ্জ মহকুমার ভোটবাড়ি গ্রামে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় ৪৫ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ভোটবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে উমর ফারুক গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁর সহযোগীরা তাঁকে উদ্ধার করে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে যান।

বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড রংপুর ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) মো. ইছাহাক বলেন, “আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে তারা (বিএসএফ) ককটেল রাবার বুলেট না গুলি ছুঁড়েছে। তবে আমার মনে হয় তারা ককটেল ছুঁড়েছে।”

উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ককে সোনালী অধ্যায় বলে বর্ণনা করা হলেও সীমান্ত হত্যার মতো বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টির কোনো সুরাহা হচ্ছে না। এ বছরের জানুয়ারিতে এক মাসেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে প্রাণ হারান ১২ বাংলাদেশি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরুতে মার্চে তা নেমে গিয়েছিল শূন্যের কোঠায়। এপ্রিলে বিএসএফ হত্যা করে চার বাংলাদেশিকে।

বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিএসএফ গুলি করে ৪৩ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে। আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত গত আট বছরে বিএসএফের গুলিতে ২৩৩ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন।