লাদাখে ভারতকে যেভাবে বোকা বানিয়েছে চীন

চীনে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিরুপমা রায় বলেছেন, বেইজিংয়ের স্পষ্ট বার্তা বুঝতে চূড়ান্ত ব্যর্থতা দেখিয়েছেন ভারতের কূটনীতিকরা। চীন কখনই বোঝায়নি তারা গালওয়ান ত্যাগ করবে।

বরং চীনের আচরণে স্পষ্ট, তারা পুরো উপত্যকাকেই নিজেদের বলে মনে করে। ওই উত্তেজনার সময় পুরো এলাকা সম্পর্কে টেরেইন নলেজ বাড়িয়েছে চীন। কিন্তু ভারত বিষয়টা খেয়ালই করেনি।

সুতরাং এই এলাকার প্রতিটি ইঞ্চি এখন চেনে চীন। যদি কোনো কারণে এখানে সঙ্ঘাত বাঁধে, তার সম্পূর্ণ ফায়দা পাবে পিপলস লিবারেশন আর্মি-পিএলএ।

একটি প্রতিবেদনে সম্প্রতি চীনা সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, পুরো গালওয়ান উপত্যকাই তাদের। অথচ ১৯৬২ সালেও এই দাবি ছিল না তাদের। ভারত এই দাবির জন্য প্রস্তুত ছিল না।

পুরো প্যাঙগন লেকের উত্তর সীমান্তজুড়ে বর্তমানে অবস্থান করছে পিএলএ সেনারা। ভারতের ধারণা ছিল সেনা প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে তাদের কাশগড় বা লাসায় ফিরিয়ে নেয়া হবে। ভারতও তাদের সেনা লেহতে ফিরিয়েছে। কিন্তু লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল ছাড়লেও চীনা সেনারা ঘাঁটি ত্যাগ করেনি।

সমুদ্রে বিশ্বের বৃহত্তম উভচর বিমানের সফল উড্ডয়ন চীনের

সমুদ্রে বিশ্বের বৃহত্তম উভচর বিমানের সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে চীন। এজি৬০০ নামের দূরপাল্লার এই বিমানের বহন-ক্ষমতা অনেক। বিমানটি জটিল আবহাওয়াতেও উড়তে সক্ষম। স্থানীয় প্রযুক্তিতে স্থানীয়ভাবে তৈরি এই বিমানটি গত ২৬ জুলাই সকালে পূর্ব চীনের শানতুং প্রদেশের ছিংতাওয়ে সমুদ্রের ওপরে সফলভাবে উড়েছে।

বিমানটি ছিংতাওয়ের সমুদ্র থেকে সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং সফলভাবে প্রায় ৩১ মিনিটের টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা কোম্পানি এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশান অব চায়না (এভিক) এসব তথ্য জানিয়েছে।

সমুদ্র থেকে বিমানটির সফল পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন ও টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করাকে এর আরো উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০১৭ সালে বিমানটি প্রথম আকাশে ওড়ে এবং ২০১৮ সালে একে একটি জলাশয় থেকে পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে ওড়ানো হয়।

এখন সমুদ্র থেকে টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন হওয়ার পর বিমানটিকে আরো বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যদিয়ে যেতে হবে। সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল একে আনুষ্ঠানিকভাবে অপারেশনে নামানো হবে। এজি৬০০ চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে ও স্থানীয়ভাবে তৈরি বৃহৎ পরিসরের ‘বিমান পরিবারের’ সদস্য।

এই পরিবারের কোড নেম হচ্ছে ‘খুনলুং’। এই পরিবারের অন্য দুই সদস্য হচ্ছে ওয়াই-২০ এবং সি-৯১৯। এর মধ্যে ওয়াই-২০ সুপরিসর পরিবহন বিমান। আর সি-৯১৯ হচ্ছে একক করিডোর সুপরিসর যাত্রীবাহী বিমান।

ভারতের ১০ম গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করল পাকিস্তান

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভারতের আরো একটি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে। রোববার রাতে পাকিস্তান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর বা আইএসপিআর জানিয়েছে, সীমান্তরেখা দিয়ে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর ভারতের ওই গোয়েন্দা ড্রোনটিকে ধ্বংস করা হয়।

আইএসপিআর জানায়, তারা চলতি ২০২০ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ভারতের অন্তত ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। গত মে মাসেও পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ভারতের অন্তত দু’টি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছিল। সীমান্তের ভেতরে গোয়েন্দা ড্রোন পাঠানোর ঘটনাকে বিদ্যমান রীতিনীতি এবং আকাশ প্রতিরক্ষাবিষয়ক চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

বিবৃতিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানায়, ভারতের একটি ড্রোন পাকিস্তান ভূখণ্ডে ঢুকেছিল। সেটিকে গুলি করে ধ্বংস করা হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ড্রোনটি পাকিস্তানে ঢুকে ছবি তুলছিল বলে তাদের দাবি। ভারত এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো উত্তর দেয়নি। লাইন অফ কন্ট্রোলের পাণ্ডু সেক্টরে ড্রোনটি দেখা গিয়েছিল বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। গুলি করার পর তার ধ্বংসাবশেষ পাকিস্তান সীমান্তে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ২০০ মিটার ঢুকে পড়েছিল ড্রোনটি।

গত কয়েক মাস ধরে জম্মু-কাশ্মির সেক্টরে ভারত-পাক সীমান্তে লাগাতার গোলাগুলি চলছে। দুই দেশেরই অভিযোগ, অন্য দেশ অনাক্রমণ চুক্তি লঙ্ঘন করে গোলা বর্ষণ করছে। তারই মধ্যে কাশ্মিরে একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে হিজবুল মুজাহিদিনসহ একাধিক গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়েছে। তাতে দুই পক্ষেরই প্রাণহানি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই বিবৃতি সীমান্তে উত্তেজনা আরো বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনিতেই গত কয়েক মাস ধরে সীমান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আছে ভারত। লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে সঙ্ঘাত হয়েছে। কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও লাদাখ বিতর্কের অবসান হয়নি।

সূত্র : দ্য হিন্দু, গ্লোবাল টাইমস, ইউরেশিয়া নিউজ, পিটিআই ও টাইমস নাউ