লাগবে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা, অথচ ‘শূন্য’ অভিজ্ঞতাতেই ওয়াসার এমডি তাকসিম!

পয়ঃনিষ্কাশনে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল নিয়োগের শর্তে। অথচ তার এ বিষয়ে ছিল না এক বছরের অভিজ্ঞতাও। তবুও তিনিই হয়েছিলেন ওয়াসার এমডি।

কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে একে একে ৫ বার বাড়িয়েছেন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ। আর এভাবেই এক দশকেরও বেশি সময় ওয়াসার শীর্ষ পদ দখল করে রেখেছেন তাকসিম এ খান।

বর্ষা আসে, বর্ষা যায়। এ নগরীর জলাবদ্ধতা আরো বাড়ে। প্রায় ১ যুগ ধরে ওয়াসার এমডির দায়িত্বে থাকা তাকসিম এ খানের সময় দখল, দূষণে ভরাট বেদখল হয়েছে নগরীর প্রায় সবকটি খাল। কয়েকগুণ দাম বাড়লেও নিশ্চিত হয়নি মানুষের সুপেয় পানির অধিকার।

সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা এ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ?

২০০৯ সালের ৩১ মে একটি জাতীয় দৈনিকে এমডি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে পয়ঃনিষ্কাশন কাজে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিয়োগের জন্য করা ৫৩ বছর বয়সী তাকসিম এ খানের ছিল না ন্যূনতম এক বছরের অভিজ্ঞতা। তৎকালীন বোর্ড চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার যোগসাজশে হয়েছিল অস্বচ্ছ এ নিয়োগ।

বোর্ড চেয়ার গোলাম মোস্তফা বলেন, ওয়াসায় এ পর্যন্ত যত এমডি ছিল তার মধ্যে ‘হি (তাকসিম) ইজ দ্যা বেস্ট’।

১ম চুক্তির ৩ বছর পূর্ণ হওয়ার পর বোর্ডের সুপারিশে আবারও ১ বছর বাড়ানো হয় এমডির নিয়োগের মেয়াদ। পরের বার পূর্ণ মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীকে ধরে তড়িঘড়ি করে আরও একবার মেয়াদ বাড়িয়ে নেন তাকসিম, যা ওয়াসা আইনেরও পরিপন্থি। বোর্ডকে অবজ্ঞা করার জের ধরে পদত্যাগও করতে দেখা যায় তৎকালীন বোর্ড চেয়ারম্যানকে।

 

বোর্ড চেয়ার রহমতুল্লাহ জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমার বিষয়টি খেয়াল নেই।

৪র্থ মেয়াদে বাড়ে আরও ১ বছর। কিন্তু ৫ মেয়াদে ঘটে উল্টো ঘটনা। যেখানে বোর্ড মন্ত্রণালয়কে নিয়োগের সুপারিশ করবে, সেখানে বর্তমান এমডিকে সুপারিশ করে নিয়োগের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের পাঠানোর নির্দেশ আসে মন্ত্রণালয় থেকেই।

বোর্ড চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, আমি কি করবো? একটা চিঠি দিলেন, সেখানে আমি আর কিছু বলতে পারি না।

অনলাইনে সাক্ষাতকারের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি ওয়াসা এমডি।

তাকসিম বলেন, আমার অভিজ্ঞতার বিষয়ে জানতে চাইলে, আরেকদিন সময় নেন, আপনাকে আমি এসব ব্যাপারে উত্তর দেব।

বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ তদন্ত চলছে ওয়াসার দায়িত্বপ্রাপ্ত এ এমডির বিরুদ্ধে।