লাকসামে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

লাকসামে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে লাকসাম থানা পুলিশ ওই গৃহবধূর স্বামী রাজমিস্ত্রি মো. সাইফুল ইসলামকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (৫ জুন) পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

নিহত ওই গৃহবধূ উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের ইরুয়াইন গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাজমিস্ত্রি মো. সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শাহীদা আক্তার জান্নাত (২০)।

লাকসাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত জান্নাতের মা পারুল বেগমের অভিযোগ, তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এই মর্মে তিনি লাকসাম থানায় একটি মামলা রুজু করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে ওই গৃহবধূর স্বামী মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃত মো. সাইফুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানান, ঘটনার দিন সকালে তার স্ত্রী জান্নাত তাকে দোকান থেকে পরোটা আনতে বললে সে দোকান থেকে পরোটা এনে স্ত্রী জান্নাতসহ একসঙ্গে নাস্তা খান। নাস্তা খাওয়া শেষে সকাল ৮টার দিকে পাশের বাড়িতে কাজের উদ্দেশ্যে চলে যায়। সকাল ১০টার দিকে সংবাদ পায় যে, তার স্ত্রীকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এমতাবস্থায় সে বাড়িতে এসে দেখেন তার স্ত্রী ঘরের ভেতর সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং তাদের সহায়তায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে লাকসামে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বামী সাইফুল আরো জানান, দোকান থেকে পরোটা এনে দু’জনে একসঙ্গে নাস্তা খেলাম। তাকে ঘরে রেখে আমি পাশের বাড়িতে কাজে গেলাম। কিন্তু কোন অভিমানে সে আমাকে ছেড়ে এভাবে চলে গেল কিছুই বুঝতে পারছি না। তার গর্ভে আমার অনাগত সন্তান। কথাগুলো বলেই সাইফুল কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের ইরুয়াইন গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাজমিস্ত্রি মো. সাইফুল ইসলামের (২৫) স্ত্রী শাহীদা আক্তার জান্নাতকে শুক্রবার (৪ জুন) সকালে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখে পরিবারের লোকজন চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে লাকসামের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে সংবাদ পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশ দুপুরে হাসপাতাল থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

অপরদিকে পুলিশ ঘটনার বিষয় জানতে ওই গৃহবধূর স্বামী রাজমিস্ত্রি মো. সাইফুল ইসলামকে থানায় নিয়ে আসেন। কিন্তু নিহতের মা পারুল বেগমের অভিযোগ, নিহতের স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার মেয়েকে মারধর করে হত্যার পর সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। ওই ঘটনায় তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে লাকসাম থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠান।

ওই গৃহবধূর স্বামী মো. সাইফুল ইসলামের স্বজনরা জানায়, একই উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের সৈয়দ আহমেদের মেয়ে শাহিদা আক্তার জান্নাতের সঙ্গে ৮/৯ মাস আগে সামাজিকভাবেই সাইফুলের বিয়ে হয়। বিয়ে পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবন বেশ সুখেই কাটছিল। বিয়ের তিন মাস পর গর্ভবতী হন শাহিদা আক্তার জান্নাত। মৃত্যুকালীন সময় ওই গৃহবধূ পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

এই ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) লাকসাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাকসুদুর রহমান জানান, ওই গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

তিনি আরো জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী অধ্যাদেশ) ২০২০-এর ১১ (ক) ৩০ ধারায় থানায় নিহত গৃহবধূর মা বাদি হয়ে স্বামীসহ পাঁচজনকে বিবাদি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর বিবাদিগণ পলাতক। তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।