র‌্যাবের রিমান্ড শেষে পুলিশ হেফাজতে আসছে সাহেদ

র‌্যাব হেফাজতে ১০ দিনের রিমান্ড শেষে পুলিশের হেফাজতে ২৮ দিনের রিমান্ড শুরু হচ্ছে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদের। সাতক্ষীরায় অস্ত্র মামলায় র‌্যাব হেফাজতে সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে মঙ্গলবার।

আজ তাকে আদালতে তোলা হবে। সেখান থেকে উত্তরা পশ্চিম ও পূর্ব থানায় চার মামলায় ২৮ দিনের রিমান্ডে যাবে সাহেদ। এর আগে ৩০ জুলাই সাহেদকে অভিযুক্ত করে অস্ত্র আইনের মামলায় আদালতে চার্জশিট দেয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ মঙ্গলবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, সাহেদের রিমান্ড শেষে বুধবার (আজ) তাকে সাতক্ষীরা আদালতে তোলা হবে। সেখান থেকে পরবর্তী রিমান্ডে যাবে সে।

উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ বলছে, র‌্যাবের রিমান্ড শেষ হলে তারা সাহেদের রিমান্ড শুরু করবে। এ বিষয়ে পুলিশের উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আলমগীর গাজী বলেন, চার মামলায় আমাদের দুই থানায় ২৮ দিনের রিমান্ডে থাকবে সাহেদ। এর মধ্যে উত্তরা পশ্চিম থানায় দুই মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ডে নেয়া হবে তাকে।

২৭ জুলাই সাতক্ষীরায় র‌্যাবের অস্ত্র মামলায় সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড দেন আদালত। একই দিনে ঢাকার মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট সাহেদের ২৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। প্রতারক সাহেদকে অভিযুক্ত করে অস্ত্র আইনের মামলায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, অস্ত্র মামলায় সাহেদের সাজা নিশ্চিত করতে যে ধরনের তথ্য প্রমাণ দরকার আমরা সবকিছুর সত্যতা নিশ্চিত করেছি এবং তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এখন আদালত বিচার করে এর রায় দেবেন।

আকদুল বাতেন আরও বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের একটি অস্ত্র মামলায় আমরা তদন্ত শেষ করেছি। দু’জন সাক্ষীর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাহেদ যখন আমাদের রিমান্ডে ছিলেন তখন তার ভাষ্যমতে তার ব্যবহার করা গাড়িটি আমরা জব্দ করি এবং গাড়ি থেকে অবৈধ অস্ত্র জব্দ করি। উল্লেখ্য, করোনার নমুনা সংগ্রহ করে মনগড়া প্রতিবেদন দেয়া, রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ নানা অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালে ৬ জুলাই অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেয় র‌্যাব।

৭ জুলাই সাহেদকে প্রধান আসামি করে র‌্যাব উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। একই দিন হাসপাতালটির মিরপুর শাখায়ও অভিযান চালিয়ে সিলগালা করা হয়। ১৩ জুলাই র‌্যাব মামলার তদন্তের দায়িত্ব চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করে। ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাক থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

সেদিনই সাতক্ষীরার দেবহাটা থানায় অস্ত্র আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। ১৬ জুলাই সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার আদালত। ৬ দিন ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে থাকার পর বৃহস্পতিবার তাকে চার দিনের জন্য র‌্যাবের হেফাজতে দেয়া হয়।

রিমান্ডে থাকা সাহেদকে নিয়ে ১৮ জুলাই রাতে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়।