রিমান্ডে নিয়ে ওসি প্রদীপের হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে : আহসানুল হক

বাংলাদেশের টক অফ দা টাউন এখন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আলোচিত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ এর ঘটনার পরপরই তার মুখোশ উন্মোচন হতে থাকে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এবং ইতিপূর্বে কিভাবে তার কর্মকাণ্ড করে টেকনাফ বাসীদের অতিষ্ঠ করে রেখেছিলেন সেগুলো আস্তে আস্তে করে উঠে আসতে শুরু করেছে সিনহা মোহাম্মাদ রাশেদ এর ঘটনার প্রেক্ষিতে চলতি মাসের প্রথম দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এবং এই মামলায় প্রদিপ সহ এই ঘটনায় আরও যারা যারা জড়িত তাদেরকে আ’সামি করা হয়

সেনাবাহিনীর অ’বসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হ’ত্যা মা’মলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, প’রিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই ন’ন্দ দুলাল র’ক্ষিতকে তৃ’তীয় দ’ফায় তিন দিনের রি’মান্ড ম’ঞ্জুর করেছেন আদালত।

দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রি’মান্ড শেষে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে তাদের সিনিয়র জু’ডিশিয়াল ম্যা’জিস্ট্রেট টেকনাফ-৩ আ’দালতে হা’জির করা হয়। এ সময় মা’মলার অ’ধিকতর তদ’ন্তের স্বা’র্থে চার দিনের রি’মান্ড আবেদন করেন ত’দন্ত ক’র্মকর্তা। শুনানি শেষে বি’চারক তামান্না ফারাহ তিন দিনের রি’মান্ড ম’ঞ্জুর করেন। পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আসা’মিদের র‌্যাব-১৫ ক’ক্সবাজার কা’র্যালয়ে নেওয়া হয়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে দ্বিতীয় দ’ফায় ১১ দিনের রি’মান্ডে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হলেও প্র’দীপসহ প্রধান তিন আ’সামি এখনও স্বী’কা’রোক্তি’মূলক জবা’নবন্দি দিতে রাজি হচ্ছেন না। তারা একেক সময় একেক কথা বলছেন। কিছু প্র’শ্নের জবাবে তারা কৌ’শলী উত্তর দিচ্ছেন। কিছু প্র’শ্নের উত্তর দিতে তারা দী’র্ঘ সময়ও নিচ্ছেন। বিশেষ করে লিয়াকত গু’লির কারণ নিয়ে এরই মধ্যে তিন ধরনের ব্যা’খ্যা দিয়েছেন।

জানা গেছে, এরই মধ্যে সিনহা হ’ত্যা মাম’লায় এপি’বিএনের যে তিন সদস্য জবা’নবন্দি দিয়েছেন তাদের ব’ক্তব্যে ঘ’টনার সময় লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলালের ভূ’মিকার বিষয় উঠে আসে। তিনজনই বলেছেন, সিনহার ঘ’টনা প্র’তিহত করার মতো অ’বস্থা তাদের ছিল না। চোখের সামনে যা দেখেছেন, তা-ই জ’বানবন্দিতে তুলে ধরেছেন এ’পিবিএনের তিন সদস্য।

এদিকে ত’দন্ত কা’র্যক্রম তদারক ও প্র’য়োজনীয় দি’কনির্দেশনা দিতে কয়েকদিন ধরে ক’ক্সবাজারে অব’স্থান করছেন র‌্যাব মহা’পরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ের স’দস্যদের সঙ্গে একাধিক বৈ’ঠকও করেছেন তিনি।

এদিকে আ’সামিদের ফের রি’মান্ডের বি’রোধিতা করে জা’মিন আবেদন করেন চট্টগ্রাম থেকে আসা একদল আইনজীবী। বি’চারক তাদের আবেদন না’কচ করে দেন।

মা’মলার ত’দন্ত ক’র্মকর্তার আবেদনের পরি’প্রেক্ষিতে ২৪ আগ’স্ট ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশের দ্বিতীয় দ’ফায় চার দিন করে রি’মান্ড ম’ঞ্জুর করেছিলেন একই আ’দালত। তার আগে আ’সামিদের সাত দিনের রি’মান্ড শেষ হয়।

শুক্রবার বিকেলে ওসি প্রদীপসহ তিন আ’সামিকে আদালতে তুলে রি’মান্ড আ’বেদন করা হলে আ’সামিপ’ক্ষের আ’ইনজীবীরা এর বি’রোধিতা করেন। আ’সামিপক্ষের আইনজীবী দলের প্রধান আ’হসানুল হক হেনা সাংবাদিকদের বলেন, আইন মতে, একটি মা’মলায় একজন আ’সামিকে সর্বোচ্চ ১৫ দিন রি’মান্ডে নেওয়া যায়।

তার ম’ক্কেল প্রদীপ কুমারসহ অন্যদের ৬ আগস্ট থেকে ২২ দিন ধরে র‌্যাব হে’ফাজতে রাখা হয়েছে। এরপর আজ তৃতীয় দ’ফায় আবারও তিন দিন রি’মান্ড ম’ঞ্জুর করা হয়েছে। সি’আরপিসিতে স্প’ষ্ট বলা আছে, সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত পুলিশ কা’স্টডিতে রাখা যাবে। তারা শি’গগির উচ্চ আদালতের শ’রণাপন্ন হবেন।

আহসানুল হক আদালতের দৃ’ষ্টি আ’কর্ষণ করে বলেন, ইতোমধ্যে দুই দফায় ১১ দিন রি’মান্ডে নিয়ে নি’র্যাতন করে ওসি প্রদীপের হা’ত-পা ভে’ঙে দেওয়া হয়েছে। তাই তৃতীয় দ’ফায় রি’মান্ডের প্র’য়োজন নেই।

এ সময় রা’ষ্ট্রপক্ষের আ’ইনজীবীরা নি’র্যাতনের অ’ভিযোগ প্র’ত্যাখ্যান করে আ’দালতকে বলেন, রি’মান্ডে নিয়ে প্রদীপের হাত-পা ভে’ঙে দিলে তিনি আদালতের কা’ঠগড়ায় দাঁ’ড়িয়ে আছেন কীভাবে?

আদালতে যু’ক্তিত’র্ক উ’পস্থাপনকালে আ’সামিপক্ষের এ আই’নজীবী বলেন, সিনহাকে ওসি প্রদীপ গু’লি করেননি। ঘট’নার সময় ওসি প্রদীপ ৩২ কি’লোমিটার দূরে থানায় অ’বস্থান করছিলেন। ঘট’না শুনে ওসি প্র’দীপ ঘট’নাস্থলে না গেলে তো বলা হতো যে, তিনি দা’য়িত্ব পালন করেননি।

 

 

সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ এর আলোচিত সেই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া উচিত প্রদিপ সহ বাকি যারা আসামি ছিলেন তারা এখন পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদেরকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ওসি প্রদীপ গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে আসছে বিভিন্ন অভিযোগ এবং অতীতে তার কর্মকাণ্ড কিভাবে মানুষ দিশেহারা অবস্থায় জীবনযাপন করছিল সেগুলো উঠে আসছে