রায়িসির কাছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোসাদ গুপ্তচরের মুক্তি চাইল ইউরোপ

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট আমেরিকার ইরান-বিদ্বেষী নীতি অনুসরণ করে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ অভিযোগে কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।

ওই পার্লামেন্ট বৃহস্পতিবার এক প্রস্তাব পাস করে এসব কর্মকর্তার সম্পদ আটকের পাশাপাশি কয়েকটি ইরানি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ওই প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, এসব ইরানি কর্মকর্তা ‘ইউরোপীয় নাগরিকদের স্বেচ্ছাচারীভাবে আটক ও মৃত্যুদণ্ড প্রদানে’ ভূমিকা রেখেছেন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাবে ইরানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী আহমাদ রেজা জালালিকে মুক্তি দেয়ার জন্য নির্বাচিত-প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এমন সময় এ দাবি জানানো হলো যখন ইহুদিবাদী ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আহমাদরেজা জালালিকে ২০১৬ সালের এপ্রিলে আটক করা হয় এবং নির্ধারিত বিচার প্রক্রিয়ায় তার ফাঁসির আদেশ হয়।

জালালি ইরানের পরমাণু, সামরিক ও গবেষণা খাতে কর্মরত ৩০ জন বিজ্ঞানীর নাম, ঠিকানা ও সমস্ত তথ্য মোসাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। এসব বিজ্ঞানীর মধ্যে ছিলেন দুই পরমাণু বিজ্ঞানী মাজিদ শাহরিয়ারি ও মাসুদ আলী মোহাম্মাদি। ওই দুই বিজ্ঞানীকেই পরবর্তীতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এ পর্যন্ত বহুবার কথিত মানবাধিকার রক্ষা করার অজুহাতে সেদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের পশ্চিমা প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্বের স্বাধীনচেতা ও সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ‘মানবাধিকার’ এখন পশ্চিমা দেশগুলোর একটি প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

সূএঃ পার্সটুডে