রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির প্লান্টে গোপনে তৈরি হচ্ছে রাশিয়ার দ্বিতীয় ভ্যাকসিন

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বিশ্বে প্রথম এনে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে রাশিয়া। এবার আরও এক ভ্যাকসিনের খবর এলো মস্কো থেকে।

জানা গেছে, রাশিয়ার ভেক্টর স্টেট সেন্টার অব ভাইরোলজি অ্যান্ড বায়োটেকনোলজিতে তৈরি ভ্যাকসিন নিরাপদ বলে জানা গেছে।

তবে Sputnik-V নামে প্রথম ভ্যাকসিন থেকে এটি সম্পূর্ণ আলাদা। নতুন এই ভ্যাকসিনের নাম EpiVacCorona. প্রাথমিকভাবে এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষায় কোনও সাইড এফেক্ট পাওয়া যায়নি। আগামী সেপ্টেম্বরে এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল সম্পূর্ণ হতে পারে।

জানা গেছে, দুটি ডোজ নেওয়ার পর ইমিউন সিস্টেম তৈরি হতে দেখা গেছে। ১৪ থেকে ২১ দিনের তফাতে দুটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৫৭ জনকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

এই ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে সাইবেরিয়ায়। এক সময় সেখানে ছিল রাশিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির কারখানা। আর সেখানেই বর্তমানে রয়েছে ভাইরোলজি ইনস্টিটিউট। সেই গবেষণাগারেই তৈরি হচ্ছে ভ্যাকসিন।

এর আগে গত ১১ অগস্ট বিশ্বে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্টার করিয়েছে রাশিয়া।

এদিকে রাশিয়ার ভ্যাকসিন তৈরিতে ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার কথাবার্তা চলছে। ভারতে ভ্যাকসিন প্রোডাকশনের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার সংস্থার সিইও।

তিনি বলেন, ভারতীয় বিজ্ঞানী এবং ম্যানুফ্যাকচারারদের সঙ্গে রাশিয়ার খুবই ভালো বোঝাপড়া রয়েছে ওরা আমাদের প্রযুক্তিটা বোঝে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন তৈরির ব্যবস্থাপনার রয়েছে তাই রাশিয়া ভারতকে প্রোডাকশন পার্টনার বানাতে আগ্রহী। যে ভারতে করোনা ভ্যাকসিনের ফেজ থ্রি ট্রায়ালও চালাতে চায় রাশিয়া।

করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ব্যাচের উৎপাদন ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে এই তথ্য। জানা গিয়েছে এই মাসের শেষেই প্রথম ব্যাচের উৎপাদন শেষ হবে। তৈরি হবে মোট ১০০ কোটি ডোজ।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে করোনা ভাইরাসের স্পুটনিক ভির তৈরি করছে গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এর নামকরণ করা হয়েছে সোভিয়েত জমানার প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক-১য়ের নাম অনুযায়ী।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিন স্থায়ী এবং প্রতিরোধী সক্ষমতা দেখাতে সক্ষম। রাশিয়া সরকার জানিয়েছে, অন্তত ২০টি দেশ প্রাথমিকভাবে এই টিকা নিতে আগ্রহী।

তবে রাশিয়ার ভ্যাকসিন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে বিজ্ঞানীদের। অনেকের মতেই ভ্যাকসিন তৈরিতে বেশ খানিকটা তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে পুতিনের দেশ।

এমনকী খোদ রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক কর্তাও জানিয়েছেন তাদের তৈরি এই ভ্যাকসিন বর্তমানে ১৮-৬০ বছর বয়সীদের দেওয়া যাবে। এছাড়া রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরুই হয়নি।