রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম চালান তৈরি শেষ

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সফলতার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম চালানের উৎপাদনও সম্পন্ন করেছে দেশটি।

শনিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা জানায়, স্পুটনিক-ভি’র প্রথম ধাপের উৎপাদন শেষ হয়েছে। তবে কত সংখ্যক ভ্যাকসিন উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে তা জানা যায়নি।

জানা গেছে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে গামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট। প্রেসিডেন্ট পুতিন ও সরকারের মন্ত্রীদের এক অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরশকো বলেছেন, চিকিৎসা কর্মীরা এবং শিক্ষকরা প্রথমে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন পাবেন। মন্ত্রী বলেন, আমরা ভ্যাকসিন পর্যায়ক্রমে দেশের নাগরিকদের সরবরাহ শুরু করব।

তবে প্রথম এবং সর্বাগ্রে আমরা সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে কাজ করা চিকিৎসা কর্মীদের টিকা সরবরাহ করতে চাই। এছাড়াও শিশুদের পাঠদানে যুক্ত শিক্ষকদের আমরা শুরুতে টিকা সরবরাহ করবো।

এদিকে, তাড়াহুড়ো করে ভ্যাকসিন প্রস্তুত করায় এর গুণগত মান নিয়ে কিছু বিজ্ঞানীর প্রশ্ন রয়েছে। তাদের ধারণা, ভ্যাকসিন তৈরির বিশ্ব প্রতিযোগিতায় নিজেদের সম্মান ধরে রাখার জন্য নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো উপেক্ষা করেছে মস্কো।

এর আগে মস্কো জানায়, করোনাভাইরাসের প্রথম টিকা স্পুটনিক-ভি’এর প্রথম ধাপের উৎপাদন এ মাসের শেষের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল ছাড়াই ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। ওই ধাপে বহু মানুষের দেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা, নিরাপত্তা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তবে স্পুটনিক-ভি’র ক্ষেত্রে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শেষ হয়নি।

চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রীয় রুশ বার্তা সংস্থা  স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে জানায়, অক্টোবর মাস থেকে জনগণকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে রাশিয়াকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।