রাশিয়ার তৈরি টিকায় শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে

রাশিয়ার করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক-ভি’-এর প্রাথমিক পর্যায়ের ট্রায়ালে (পরীক্ষামূলক প্রয়োগ) অংশ নেওয়া সবার শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধের সক্ষমতা তৈরির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।

চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী  প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের সবার শরীরে করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার মতো অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে এবং বড় কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এবং কোন রকম তথ্য প্রকাশ না করেই অগাস্ট মাসে স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের জন্য টিকার লাইসেন্স দেয় রাশিয়া।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সক্ষমতা এবং নিরাপত্তা প্রমাণ করার জন্য এই পরীক্ষাটি খুবই ছোট আকারের। রাশিয়ার কাজের ধরণ নিয়ে পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, তারা হয়তো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যাচ্ছেন।

তবে সমালোচনার বিপক্ষে পরীক্ষার ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে মস্কো।

গত মাসে প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিন বলেছেন, প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে টিকাটি। তার এক কন্যাকেও টিকা দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে?

স্পুটনিক-ফাইভ নামের টিকাটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে গত জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৮ জন স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবীর ওপর টিকার প্রয়োগ করা হয়েছে এবং তিন সপ্তাহ পরে তাদের আবার বুস্টার ডোজ দেয়া হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ১৮-৬০ বছরের মধ্যে। তাদের পরবর্তী ৪২ দিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়।

তাদের সবার শরীরে পরবর্তী তিন সপ্তাহের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে সাধারণ যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তা হলো মাথা ব্যথা এবং হাড়ের সন্ধিস্থলে ব্যথা।

তৃতীয় দফায় বিভিন্ন বয়সের ও ঝুঁকি শ্রেণীর ৪০,০০০ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর পরীক্ষা করা হবে।

সাধারণ সর্দিকাশি তৈরি করে, সেই অ্যাডেনোভাইরাসের উপাদান ব্যবহার করে রাশিয়ার এই টিকা তৈরি করা হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদক ফিলিপ্পা রক্সি বলছেন, যদিও যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে ‘উৎসাহব্যঞ্জক, যথেষ্ট ভালো’ বলে মন্তব্য পেয়েছে, কিন্তু এখনো এই টিকার সফলতার জন্য পরিষ্কারভাবে অনেকদূর যেতে হবে।

যদিও দ্বিতীয় দফায় সব অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার লক্ষণ দেখা গেছে কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এটি করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। সেই ক্ষমতার ব্যাপারটি এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো বলেছেন, নভেম্বর ডিসেম্বর মাস থেকে দেশটি আরও বেশি মানুষকে টিকা দেয়া শুরু করবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, বাজারে পুরোপুরি চালু করার আগে আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা উচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ১৭৬টি টিকা আবিষ্কারের কাজ চলছে। এর মধ্যে মানব পর্যায়ের ট্রায়ালে রয়েছে ৩৪টি টিকা। তার মধ্যে আটটি রয়েছে তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার ধাপে।

সূত্র: বিবিসি।