রামেক ইন্টার্নিদের গ্রেফতার না করলে আত্মহত্যার হুমকি মুক্তিযোদ্ধাদের

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর মৃত্যু এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তার ছেলের ওপর হামলার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে রাজশাহী জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

শনিবার আয়োজিত মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধারা বলেছেন, রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর মৃত্যু এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তার সন্তানের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটিয়েছে ইন্টার্নি নামের কিছু দুর্বৃত্ত। এ হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। আর বিচার না হলে মুক্তিযোদ্ধারা শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করবেন। এছাড়া তাদের সামনে কোনো পথ খোলা নেই।

গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে অসুস্থ স্ত্রী পারুল বেগমকে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী। সেখানে আধা ঘণ্টা ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে পড়ে থেকে বিনা চিকিৎসায় পারুল বেগম মারা যান।

এর প্রতিবাদ করলে সংঘবদ্ধ ইন্টার্নি ডাক্তাররা মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী, তার ছেলে শিক্ষা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম এবং ছেলের বউ এর ওপর ন্যক্কারজনক হামলা করে। পারুল বেগমের লাশ আটকে রেখে ইন্টার্নিরা মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারকে ঘরের মধ্যে তালা মেরে অকথ্য নির্যাতন চালায়। মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলীকে ফেলে দিয়ে তার বুকে পেটে ও মুখে লাথি মারে একদল ইন্টার্নি চিকিৎসক। মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী এখন শুধু অসুস্থই নয় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

তারই প্রতিবাদে শনিবার সকালে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে রাজশাহী জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। কয়েকশ মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মানববন্ধনে অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধা নির্যাতনকারী ইন্টার্নি ডাক্তারদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে এবং সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম ও মুক্তিযুদ্ধ ৭১ রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বলের পরিচালনায় মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বক্তব্যে বলেন, চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যু এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্বজনদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে হবে। তা না হলে মুক্তিযোদ্ধা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। সমাবেশ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা দেবেন।

বক্তারা আরও বলেন, রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে যে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেছেন তা ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য। তদন্ত কমিটির সদস্যরা সবাই ডাক্তার। ফলে তারা হামলায় জড়িত ইন্টার্নিদের অপরাধের দায় থেকে বাঁচাতে কাজ করছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি করেন।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা কমান্ডার শফিকুর রহমান রাজা, কবিকুঞ্জের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান খান আলম, রবিউল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম, হাকিম আতাউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মোর্শেদ রঞ্জু, মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন মোল্লা, নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী ও তার পরিবারকে নির্যাতনের প্রতিবাদে রোববার সকালে নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে সামাজিক আন্দোলন প্রতিষ্ঠান রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।