রাফাল নিয়ে বড় ভুলে আছে ভারত!

ভারতীয় বিমান বাহিনীর সাম্প্রতিক সময়ে ৫টি ফরাসি-নির্মিত রাফাল যুদ্ধবিমান প্রাপ্তি বিরাট ঘটনা। বিতর্কিত মাল্টিবিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় ভারত মোট যে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, এই বিমানগুলোর তার প্রথম ব্যাচ।

ভারতীয় বিমান বাহিনী তার বিমান বহরে বৈচিত্র্য আনার দাবি জানিয়ে আসছিল দীর্ঘ দিন ধরে। এই বিমানগুলো তা আংশিকভাবে পূলণ করল। চীনের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে দ্রুত মোতায়েনের লক্ষ্যে আম্বালার বিমান ঘাঁটিতে বিমানগুলো অবতরণ করে। অবশ্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই ৫টি বিমান কি কৌশলগত ভারসাম্য ভারতের অনুকূলে নিয়ে আসবে? আর এর জবাব হলো একটি বড় না!

গ্লোবাল টাইমসের মতে চীনা বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন যে রাফাল হলো কেবল থার্ড-প্লাস জেনারেশন যুদ্ধবিমান। এটি চীনা বিমান বহরে থাকা জে-২০-এর মতো ফিফথ-জেনারেশন যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে তেমন সুযোগই পাবে না।

জে-২০ হলো পুরোপুরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান। আর রাফালে আংশিক স্টিলথ ফিচার আছে। রাফালকে বড়জোর চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বলা যায়। অবশ্য তা সত্ত্বেও এই বিমান ভারতীয় বিমান বাহিনীকে নতুন জীবন দেবে।

ভারতের আগে থেকেই সু-৩০এস রয়েছে। এগুলো হলো চতুর্থ প্রজন্মের বিমান। অর্থাৎ ভারতীয় বিমান বাহিনীতে এই প্রথম চতুর্থ প্রজন্মের বিমান যুক্ত হলো, বিষয়টি তা নয়। তাহলে কেন এই বিমানকে ঘিরে এত উৎসাহ ভারতীয় শিবিরে?

ভারতে ২৯ জুলাই থেকে প্রধান টুইটার ট্রেন্ড পুরোটাই রাফালকে কেন্দ্র করে। RafaleInIndia, RafalepowersIndia-এর মতো হ্যাশ ট্যাগ ভারতীয় সামাজিক মাধ্যমে ভেসে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব বিমানের আগমনের পূর্ণ কৃতিত্ব নিচ্ছে। ভারতের মূলধারার মিডিয়া জেটগুলোকে লাল-গালিচা সংবর্ধনা দিচ্ছে, টেলিভিশনে ফ্রান্স থেকে আম্বালা পর্যন্ত সাত হাজার কিলোমিটার সফর সম্প্রচার করেছে।

এ ধরনের সংবর্ধনা বিমান ইতিহাসে নজিরবিহীন। মনে হলো যে ত্রাণকর্তার আবির্ভাব ঘটেছে। অধিকন্তু, রাফাল হলো ফ্রান্সের নির্মাণ করা বিমান। আমদানি করা পণ্য জাতীয় গৌরবের উৎস হতে পারে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

মনে হচ্ছে রাফাল আচ্ছন্নতায় ভুগছে ভারত। এই অবস্থাকে নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে ভ্রান্তিবিলাস হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে।কিন্তু মূলধারার লোকরঞ্জক মিডিয়ার কারণে তাই ভারতে গ্রাস করেছে। ভারত হলো বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশ।

এর বিশাল মানবসম্পদ সন্দেহাতীতভাবে বিশ্ব রাজনীতিতে অন্যতম খেলোয়াড়ে পরিণত করার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু সে নিজেকে বিশ্ব শক্তি নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তিও বিবেচনা করতে চায় না।

তবে রাফাল আচ্ছন্নতা ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রয়োজন পূরণ করছে। সীমান্তে চীনা বাহিনীকে দেখে চমকে যাওয়া ভারত কোনোভাবেই এর জন্য প্রস্তুত ছিল না।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতের ২০ সৈন্য নিহত হওয়া, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে সৃষ্ট অসন্তোষের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে মুখ রক্ষার জন্য কিছু একটার জরুরি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো তারা বাস্তবতা আর কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনি।

চীনের প্রতি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং রাফালের সক্ষমতা ও ভারতের প্রতিবেশীদের কতটা উদ্বেগে থাকা উচিত তা নিয়ে টুইট করেছেন।এটি খুবই বিপজ্জনক প্রবণতা। কারণ ভারতের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বই নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে দিবাস্বপ্নে বিভোর রয়েছেন। তাদের উচিত ছিল, তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত থাকা।

তা না হলে তাদের পক্ষ থেকে বিরাট ভুল হিসাব হয়ে যেতে পারে। সামরিক সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জন সীমিত সক্ষমতার ব্যাপারে ভিত্তিহীন আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করতে পারে। এ ধলনের পরিস্থিতিতে তরতরিয়ে মইয়ে চড়া খুবই সহজ হয়ে পড়ে। কিন্তু তারপরই নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে বাস্তবতা উপলব্ধি ঘটে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।

২০১৯ সালেল ২৭ ফেব্রুয়ারির ঘটনাটি কী ঘটতে পারে তার একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। ওই দিনই পাকিস্তান বিমান বাহিনী ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি মিগ-২১ বাইসন গুলি করে ভূপাতিত করে এর পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে আটক করেছিল।

সূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর