যে কারণে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন, জানালেন ত্ব-হা আদনান

নিখোঁজের আট দিন পর অবশেষে রংপুরে বাড়িতে ফিরেছেন আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান। শুক্রবার দুপুরে তার শ্বশুরের বাসায় তাকে পাওয়া যায়। রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, বিকাল ৩টার দিকে তাকে রংপুর নগরের আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন মাস্টার পাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে সেখান থেকে তাকে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে দাবি করে ব্যক্তিগত কারণে ত্ব-হা ও তার সঙ্গীরা আত্মগোপনে ছিলেন। তবে ব্যক্তিগত কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ জানায় এই মুহূর্তে তারা বলতে পারবেন না। সেটা ভেরিফাই করতে হবে। তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করব। আসলে সব ব্যক্তিগত কারণ তো বলা যায় না। পরে ডিবি পুলিশ জানায়, দাম্পত্য কলহে অতিষ্ঠ হয়ে ত্ব-হা আদনান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গিয়েছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে উদ্ধারের পর শুক্রবার বিকালে রংপুর নগরীর ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেন, পারিবারিক কারণে গাইবান্ধার ত্রিমোহনীতে বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন ত্ব-হা আদনান।

আলোচিত এই ধর্মীয় বক্তা ও তার সঙ্গীরা ঢাকা থেকে ফিরে তার এক বন্ধুর বাসায় আত্মগোপন করেছিলেন। তার বন্ধুর নাম সিয়াম। পুলিশ জানায়, তার বন্ধু (সিয়াম) বাসায় ছিলেন না। তার মা বাসায় ছিলেন। তারা একটি ব্যক্তিগত কারণে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। তারা ওই রাতেই ঢাকা থেকে ফিরেছে অন্য কোথাও অবস্থান করেনি।

এদিকে প্রত্যক্তদর্শীরা জানায়, ত্ব-হা আদনান তার শ্বশুর বাড়িতে এসে পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে স্বাভাবিক কথা বলেন। সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন তিনি। এলাকাবাসীর সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন। এ সময় হাসিমুখেই কথা বলছিলেন এই ধর্মীয় বক্তা।

৩১ বছর বয়সী এই ইসলামি বক্তার নাম মো. আফছানুল আদনান ত্ব-হা। তবে আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান নামেই পরিচিত। বাড়ি রংপুরে। রংপুর মহানগরীর সেন্ট্রাল রোডের আহলে হাদিস মসজিদ-সংলগ্ন গলিতে তার পৈতৃক বাসা। বিয়ের পর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শালবন এলাকার চেয়ারম্যানের গলিতে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

আদনানের দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর নাম আবিদা নুর, দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তিন বছরের একটি মেয়ে ও দেড় বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান আছে। দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারা মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক। তিন মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল।