যুদ্ধবাজ নেতা আবদুর রশিদ দোস্তামের দেশত্যাগ

তালেবান বাহিনীর অগ্রাভিযানের প্রেক্ষাপটে বলখ প্রদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন লৌহমানব হিসেবে পরিচিত আবদুল রশিদ দোস্তাম ও আতা মোহাম্মদ নূর। একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা উজবেকিস্তানে পালিয়ে গেছেন। তারা বলেছেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মাজার ই শরিফের পতন ঘটেছে।

তালেবান বাহিনী শনিবারই বখল প্রদেশের রাজধানী মাজার ই শরিফ দখল করে নেয়। বলখ প্রদেশের আইনপ্রণেতা আবাস ইব্রাহিমজাদা বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, তালেবানের অগ্রাভিযানের মুখে জাতীয় সেনাবাহিনী তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

এতে সরকারপন্থী মিলিশিয়া ও অন্যান্য বাহিনী মনোবল হারিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা পরিত্যাগ করে। তিনি বলেন, হাজার হাজার যোদ্ধার কমান্ডে থাকা আবদুল রশিদ দোস্তাম ও আতা মোহাম্মদ নূর প্রদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। তাদের অবস্থান জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, আতা মোহাম্মদ নূর আফগানিস্তানের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং তিনি ২০১৮ সাল পর্যন্ত বলখ প্রদেশের গভর্নর ছিলেন। তিনি তাজিক বংশোদ্ভূত। অন্যদিকে রশিদ দোস্তাম উজবেক বংশোদ্ভূত। দুজনই প্রবলভাবে তালেবানবিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্থানীয় মিলিশিয়া বাহিনীর কমান্ডার নূর এক টুইট বার্তায় বলেন, তিনি ও দোস্তাম নিরাপদে আছেন। তিনি নগরীর পতনকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেন। তালেবান বাহিনী কার্যত বিনা প্রতিরোধেই মাজার ই শরিফে প্রবেশ করে।

এর আগে আরেক তালেবানবিরোধী কমান্ডার ইসমাইল খান তালেবানের হাতে আটক হয়েছেন। তিনি হেরাত প্রদেশ পতনের সময় আটক হন।
‘ওয়ারলর্ড’ হিসেবে পরিচিত এসব নেতা কোনো সরকারি পদে না থাকলেও তাদের ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব ও আঞ্চলিক ক্ষমতার রাজনীতিতে ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী। এদের পতনে কাবুল সরকারের অবস্থান আরো নাজুক হয়ে পড়ল।

সূত্র : আল জাজিরা ও রয়টার্স