যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন ইরানের বিমান যাত্রীরা

মার্কিন যুদ্ধবিমানের ধাওয়ায় ভুক্তভোগী মাহান এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন ইরানের আদালতে। শনিবার (২৫ জুলাই) দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিচার বিভাগীয় মানবাধিকার অফিসের প্রধান আলী বাঘেরি-কানি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেছেন, মাহান এয়ারের ১১৫২ ফ্লাইটের ইরানি বা অ-ইরানি সব যাত্রী চাইলেই ‘সন্ত্রাসী’ মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার, অপরাধী, সুপারভাইজার ও ডেপুটিদের বিরুদ্ধে ইরানের আদালতে মানসিক এবং শারীরিক ক্ষতির অভিযোগ জানিয়ে মামলা করতে পারবেন।

ইরানের বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা মাহান এয়ারের ওই ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উদ্দেশে তেহরান ত্যাগ করে। পরে সন্ধ্যার দিকে বিমানটি সিরিয়ার তাল আন্ফ অঞ্চলে পৌঁছালে এর কাছাকাছি বিপজ্জনক মহড়া চালায় শত্রু পক্ষের দুটি যুদ্ধবিমান। এ অবস্থায় সংঘর্ষ এড়াতে ইরানি পাইলট হঠাৎ করে যাত্রীবাহী বিমানটির উচ্চতা কমিয়ে নিচে নামিয়ে আনেন।

এ সময় ঝাঁকিতে বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন। প্রথমে যুদ্ধবিমান দুটি ইসরায়েলের বলে দাবি করলেও পরে এর অন্তত একটি যুক্তরাষ্ট্রের বলে জানায় ইরান।

সিরিয়ার আকাশে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের মহড়ার কথা স্বীকার করলেও সেটি ইরানি বিমানের থেকে নিরাপদ দূরত্বে ছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা প্রকাশিত ভিডিওতে বিমানের জানালা দিয়ে কাছাকাছি যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায়। ওই ভিডিওতে এক যাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায়ও দেখা গেছে।

এ ঘটনায় মাহান এয়ারের কোনো যাত্রী মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে মামলা করছেন কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান সংস্থার (আইসিএও) কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছে।