যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সংশোধনের সময় এসেছে: ভিয়েনা বৈঠকে ইরান

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময়ই আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএর সঙ্গে সর্বোচ্চ সহযোগিতা বজায় রাখা এবং সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে চলেছে। তাই আইএইএ’র সদস্য হিসেবে তেহরানও প্রত্যাশা করে এই সংস্থাটি রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার উপপ্রধান মোহাম্মদ ইসলামি আইএইএ’র ৬৫তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য বর্তমানে ভিয়েনায় অবস্থান করছেন। তিনি ভিয়েনা বৈঠকের প্রথম দিনে বলেছেন,যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভুল সংশোধনের সময় এসেছে এবং প্রথমে তাদেরকে ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অন্যায় নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই তুলে নিতে হবে। এরপর সত্যিই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলো কিনা তা যাচা বাছাই করেই তেহরান পরমাণু সমঝোতায় ফিরবে।

ইরান পশ্চিম এশিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি ইহুদিবাদী ইসরাইলের গোপন পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে তেহরানের উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তাররোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তির পূনর্মূল্যায়ন বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাব এবং ২০০৯ ও ২০১০ সালে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসরাইল তাদের পরমাণু কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অনুমতি দিচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে তিনি আইএইএর উদাসীনতার সমালোচনা করেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আইএইএর প্রতি ইরানের সমালোচনা সমালোচনা থেকে বোঝা যায় এই সংস্থার পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ও প্রতিবেদন উত্থাপন যথেষ্ট সন্দেহজনক এবং তারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছে না। অর্থাৎ সংস্থাটি পরমাণু বিষয়ে কোনো কোনো দেশের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকে। এ প্রসঙ্গে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী আব্দুল আজিজ বিন সালমানের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা যায়। তিনি ভিয়েনা সম্মেলনে দখলদার ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র এবং খোদ সৌদি আরবের গোপন পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেছেন, পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধে ইরান বড় হুমকি।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে এমন সময় এ অভিযোগ উত্থাপন করা হলো যখন দৈনিক আল খালিল আল যাদিদের এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি লেখা হয়েছে সৌদি আরব বহু বছর ধরে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া গত জুনে ব্লুমবার্গ টিভি চ্যানেলেও বলা হয়েছে, রিয়াদ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না এমন প্রতিশ্রুতি এখনো দেয়নি।

এদিকে, ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি কাজেম গারিব আবাদি ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে প্রতিবেদন তুলে ধরার জন্য এই সংস্থার প্রতি আহ্বান জানালেও তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আইএইএর প্রতি আরেকটি সমালোচনার কারণ হচ্ছে এই সংস্থাটি কোনো কোনো দেশের রাজনৈতিক চাপে প্রভাবিত হচ্ছে। আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসির গতকালের বক্তব্যে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। এ কারণে ইরান এই সংস্থার কিছু কার্যক্রমের সমালোচনা করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্রঃ পার্সটুডে