ময়লার ঠিকাদারি না পেয়ে ছাত্রলীগ নেতার আত্মহত্যা

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন শুক্রাবাদ এলাকায় আবু বক্কর সিদ্দিক রুবেল (৩২) নামে ছাত্রলীগ নেতা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২২ জুন) সকাল ৯টার দিকে শুক্রাবাদের ৭২/১ ভাড়া বাসা থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

স্বজনরা জানায়, রুবেল কলাবাগান থানার ১৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় বাসা-বাড়ির ময়লা ফেলার ঠিকাদারি না পেয়েই আত্মহত্যা করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, নিহত রুবেল বরিশালের হিজলা উপজেলা হরিনাথ পুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। শুক্রাবাদে পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন রুবেল।

নিহতের স্ত্রী লাবনী আক্তার বলেন, মঙ্গলবার সকালে আমি রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এক ফাঁকে রুমে গিয়ে দেখি ফ্যানের সঙ্গে লুঙ্গি পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন রুবেল। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় শমরিতা হাসপাতাল ও পরে বেলা ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই ওসমান গনি জানান, তার ভাই সিটি করপোরেশনের ময়লার ঠিকাদারি পেয়ে সেই কাজ করতেন। টেন্ডারটি জোরপূর্বক ১৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সেক্রেটারি শিশির দুয়ারী নিয়ে নেন এবং রুবেলকে টেন্ডার ছেড়ে দিতে বলেন। এ নিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন স্থানীয় সজীব, শিমুল, শিশিরসহ কয়েকজন।

রুবেল প্রায় ১০ মাস ধরে ময়লার টেন্ডারের কাজ করে আসছিলেন। আর কয়েক মাস করার পর টেন্ডার ছেড়ে দেবেন বলে শিশিরদের জানিয়েছিলেন। কেননা রুবেল ঋণগ্রস্ত ছিলেন। এসব নিয়ে মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন তিনি। সব সময় বলতেন, এখন আমি কী করব, কীভাবে টাকা উপার্জন করবো, ঋণ শোধ দেব কীভাবে? এ কারণে রুবেল আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা ছোট ভাইর গনির।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই আব্দুল্লাহ খান জানান, রুবেলকে ঢামেকে আনার পরেই চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখাসহ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, আবু বক্কর সিদ্দিক রুবেল নামে ছাত্রলীগের এই নেতা গত ৯ জুন শুক্রাবাদে ময়লার বিল নেয়ার জন্য দরজায় লাথি মেরে রহিমা বেগম (৭৩) নামে বৃদ্ধার মাথা ফাঁটিয়ে দিয়েছিলেন। পরে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগতে থাকা ওই বৃদ্ধা ফার্মেসিতে গিয়ে ব্যান্ডেজ নিয়েছিলেন। তখন আহত বৃদ্ধার ছেলে মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছিলেন, পাশের বাসায় ময়লার টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল।

সেখানে তর্কাতর্কি হয়েছে। আমাদের বাসার কলবেলও চেপেছিলেন রুবেল। মা দরজা খুলছিলেন। খুলে যাওয়া দরজায় লাথি দেন রুবেল। দরজা মায়ের কপালে লাগে। এতে কপাল ফেটে অনেক রক্ত ঝরেছে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আসলে রুবেল ক্ষমা চেয়ে চলে যান। পরে থানায় অভিযোগ করার কথা থাকলেও আর অভিযোগ করেনি বৃদ্ধার ছেলে আলাউদ্দিন।

সূত্রঃ ইত্তেফাক