মোটরসাইকেল থামাতে বলায় এসআইকে পেটালেন ছাত্রলীগ নেতা

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন সরাইল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন। তার সঙ্গে একজন কনস্টেবল ছিলেন।

এসময় স্কুলের সামনে দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহ। তাকে মোটরসাইকেল থামাতে বলা হলে নেমেই চড়াও হন এএসআই আলাউদ্দিনের ওপর।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা মাসুম বিল্লাহকে থামতে বলার পর সে তার পরিচয় দিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে।

এসময় পুলিশ তার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে আরো ক্ষেপে যায় মাসুম বিল্লাহ এবং অনেকটা আচমকাই আলাউদ্দিনকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। সেখানে উপস্থিত থাকা সাধারণ মানুষ মাসুম বিল্লাহর হাত থেকে উদ্ধার করে এএসআই আলাউদ্দিনকে।

ঘটনার পরমুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত হয় সরাইল থানার ওসি নাজমুল ইসলামসহ পুলিশের একটি টিম। তারা মাসুম বিল্লাহকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ সময় তার ট্রাউজারের পকেট থেকে ছয় বোতল পেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। ইতোমধ্যে মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে। একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ও অন্যটি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে।

মাসুম বিল্লাহকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন থানার সামনে। থানায় উপস্থিত হন সরাইল উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম।

অপর ভাইস চেয়ারম্যান আবু হানিফও কিছুক্ষণ পর মাসুম বিল্লাহকে ছাড়িয়ে নিতে আসেন। তবে দুজনেই সেটা অস্বীকার করে বলেছেন, এমনিতেই দেখতে গিয়েছিলাম, কোনো সুপারিশ করিনি।