মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর হাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫৭

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুলিতে নতুন করে আরও আট বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫৭ জনের বেশি। স্থানীয় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার বরাতে আনাদুলু এমন খবর দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুন) অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, মানদালায় অঞ্চলে সামরিক যানের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুই মোটরবাইক যাত্রী নিহত হয়েছেন।

একই রাতে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) অর্থবিষয়ক সম্পাদক চিট কো-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিয়ানমারের কারাগারে বর্তমানে চার হাজার ৬৭৭ জন রাজনৈতিক বন্দী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬২ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির বর্তমান সংকটের সুরাহার ধীর গতিতে অসস্তোষ প্রকাশ করেছেন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণ।

সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, সেনাবাহিনীর গুলিতে বেসামরিক লোকজন এখনো হতাহত হচ্ছেন। রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি রাজনৈতিক সংলাপ কিংবা আলোচনারও কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের এখন এদিকে নজর দিতে হবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর নিরস্ত্র বিরোধীদের ওপর সশস্ত্র বাহিনীর নিপীড়ন বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। নিহতের এ সংখ্যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলকে নাড়া দিলেও নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে এনএলডি’র দুই কর্মকর্তার মৃত্যু মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের আরও ভীতিকর চিত্র হাজির করছে।

অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারজুড়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের মোকাবিলা কীভাবে হবে তা নিয়ে প্রথম ‍তিন সপ্তাহ সামরিক বাহিনীকে খানিকটা দ্বিধাগ্রস্ত দেখা গেলেও ফেব্রুয়ারির শেষদিকে এসে তারা বলপ্রয়োগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তারা যে কোনো ধরনের সংযম দেখাবে না, মার্চের প্রথম সপ্তাহেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়।