মিয়ানমারের নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে জাপান

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানে দেশটিতে সহিংস অবস্থা বিরাজ করায় দক্ষিণ-এশিয়ার এ দেশের নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে মিয়ানমার।
দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জাপান সরকারের আইন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার মিয়ানমারের ৩ শতাধিক নাগরিকের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। খবর আনাদোলুর।

জাপানে কর্মরত মিয়ানমারের এসব নাগরিকের ভিসার মেয়াদ এ মাসে শেষ হয়ে গিয়েছিল। টোকিওভিত্তিক বার্তা সংস্থা কিয়োডো নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জাপানের আইনমন্ত্রী ইয়োকো কামিকাওয়া এ তথ্য জানান।

ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করা মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে দেশটির জাতীয় দলের ফুটবলার পিয়েই লিয়াং অংয়ের নামও রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাপানের আইনমন্ত্রী। এ ছাড়াও অর্ধশতাধিক মিয়ানমারের নাগরিক জাপানে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় চেয়েছেন। তবে এদের ব্যাপারে জাপান সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর থেকে জান্তাদের হাতে এ পর্যন্ত মিয়ানমারের ৮৯২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ৬ হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি)।

মিয়ানমারে জান্তাবাহিনীর অভ্যুত্থানের পর থেকে আনুমানিক ২ লাখ ৩০ হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। শুধু সেনা অভ্যুত্থানেই নয়, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সঙ্গে সরকারের লেগে থাকা সংঘাতেও বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের জন্য জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

সেনা-পুলিশের ওপর হামলা, প্রতিহামলার খবর হরহামেশাই পাওয়া যায়। এসব সংঘাতের জের ধরে কারেন রাজ্য থেকে ১ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গত মাসে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এ রাজ্যের ১ লাখ ৩ হাজার মানুষ।

একইভাবে ভারতের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাজ্য শিন থেকেও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ। সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগঠনগুলোর উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন ও শান রাজ্যের হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।