মিয়ানমারের গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর আগুন, দুই বৃদ্ধের মৃত্যু

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের মাগউই অঞ্চলে সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর একটি গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার এই ঘটনায় ওই গ্রামের বাসিন্দা এক প্রবীণ দম্পতি আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। গ্রামটির বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এ ঘটনার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করেছে।

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন এমআরটিভির খবরে বলা হয়েছে, মাগওয়ে অঞ্চলের গ্রাম কিন মা-তে মঙ্গলবার ‘সন্ত্রাসীরা’ আগুন লাগিয়ে দেয়। গ্রামটিতে প্রায় ৮০০ বাসিন্দা রয়েছে। আর যে গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে অন্যকিছু বলা হচ্ছে তারা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে সামরিক বাহিনীর সুনামহানির চেষ্টা করছে’। এমআরটিভি বলেছে, ৪০ জন ‘সন্ত্রাসী’ কিন মা-র একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে, এখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গ্রামটির ২২৫টি বাড়ির মধ্যে শতাধিক বাড়ি পুড়ে যায়।

তবে ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আগুনে গ্রামের ২৪০টি বাড়ির মধ্যে ২০০টি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তারা জানান, জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীদের স্থানীয় দলের সঙ্গে সংঘর্ষের পর সামরিক বাহিনী ওই গ্রামে এসে আগুন লাগিয়ে দেয়। এক বাসিন্দা জানান, সামরিক জান্তার আক্রমণ দমনে গড়ে ওঠা পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) স্থানীয় সদস্যদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর গত মঙ্গলবার থেকেই সংঘর্ষ শুরু হয়। বুধবার পিডিএফের যোদ্ধারা পিছু হটলে সৈন্যরা ওই গ্রামে এসে আগুন লাগিয়ে দেয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায়, মঙ্গলবার সামরিক বাহিনীর হামলার আশঙ্কায় স্থানীয়রা গ্রাম ছেড়ে পালান। এসময় চলতে সক্ষম না হওয়ায় ওই গ্রামের পাঁচ বয়স্ক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীসহ রেখে যান তারা। গ্রামে থেকে যাওয়া ওই পাঁচ ব্যক্তিকে পরদিন এসে দেখে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানান তারা। সৈন্যদের লাগানো আগুন থেকে বয়স্ক তিন ব্যক্তি পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হলেও ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মা মং ও তার স্ত্রী ৮৩ বছর বয়সী কাই মিন আগুনে পুড়ে নিহত হন।

এক প্রতিবেশী মিয়ানমার নাউকে বলেন, ‘বৃদ্ধ খুবই দুর্বল ছিলেন। এমনকি তিনি হাঁটতেও পারতেন না। তাঁর সব সন্তানই পালিয়ে গিয়েছিল। ফলে আগুন থেকে তাকে বাঁচানোর মতো কেউ ছিল না। আমার মনে হয়, বৃদ্ধাও পালিয়ে না গিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে মরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

মিয়ানমারের অবস্থা পর্যব্ক্ষেণকারী থাইল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (এএপিপি) তাদের দৈনিক প্রতিবেদনে জানায়, ১ ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে বিক্ষোভে সামরিক জান্তার দমন অভিযানে অন্তত ৮৬৫ জন নিহত হয়েছেন।

সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স