মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ভেনিজুয়েলার আগ্রহ প্রকাশ

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার হয়েছে। ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরখে অরিজা ইরানের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সম্পর্ক জোরদারে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ভেনিজুয়েলা ও ইরান উদীয়মান দুটি শক্তিশালী দেশ এবং ভৌগোলিক দিক থেকে এ দুটি দেশ অনেক দূরে অবস্থান করলেও বহু দিক দিয়ে তারা অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।

সাম্প্রতিক বছরে ভেনিজুয়েলা ব্যাপক মার্কিন চাপ ও হুমকির মধ্যে রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা মাদুরো সরকারের ওপর আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবল চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দিয়ে মার্কিন সমর্থক ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করছে।

এমন সময় ওয়াশিংটন এ চেষ্টা চালাচ্ছে যখন জনগণ ও সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে মাদুরো সরকার শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মিত্রদের সহযোগিতায় সুষ্ঠু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সেদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছেন। ভেনিজুয়েলার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হচ্ছে ইরান এবং ইরানের সহযোগিতায় তারা নিজেদের অবস্থানকে অনেকটা শক্তিশালী করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা ভেনিজুয়েলার পাশাপাশি ইরানের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে যাতে দেশটি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পঙ্গু হয়ে পড়ে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি বরং ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এ অবস্থায় ইরান ও ভেনিজুয়েলা ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তুলেছে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনিজুয়েলা তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়লে মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে ইরান তেলবাহী জাহাজ পাঠায় ভেনিজুয়েলায়। এতে বিরাট সংকট থেকে রেহায় পায় ভেনিজুয়েলা। এর কিছু দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হুমকি উপেক্ষা করে ইরান বিভিন্ন ধরনের জরুরি পণ্য ভেনিজুয়েলায় সরবরাহ করে। রাজধানী কারাকাসে ইরান ‘ম্যাগাসিস’ নামে বিশাল একটি শপিং সেন্টারও উদ্বোধন করেছে।

এতে মার্কিন কর্মকর্তারা ক্ষিপ্ত ও চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং একদল কংগ্রেস প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে লেখা এক চিঠিতে ইরান ও ভেনিজুয়েলার মধ্যকার সহযোগিতা বিস্তারের পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দেন। যদিও মার্কিন রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ইরান ও ভেনিজুয়েলার কর্মকর্তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।