মার্কিন স্বেচ্ছাচারিতার রুদ্ধে বিশ্বব্যাপী রুখে দাঁড়ানোর সময় হয়ে এসেছে: ভিয়েনায় ইরান

মার্কিন একাধিপত্যকামিতা ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সারা বিশ্বের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। কেননা আমেরিকার এ আচরণ শুধুমাত্র একটি বা কয়েকটি দেশের জন্য হুমকি হয়ে ওঠেনি বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য তা বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেনেভায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ইসমাইল বাকায়ে হামানে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক পরিষদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, অবাধে ত্রাণ তৎপরতা চালানোর স্বার্থে একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সময় হয়ে এসেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন স্বেচ্ছাচারী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা দু’ দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মার্কিন স্বেচ্ছাচারিতার পরিণতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলছে। আর দ্বিতীয়ত, এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া জাতিসংঘের সদস্য সব দেশেরই দায়িত্ব।

বাস্তবতা হচ্ছে, মার্কিন সরকার স্বেচ্ছাচারী আচরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও অধিকারকে লঙ্ঘন করছে। অন্যায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে, প্রচারণা ও সাংস্কৃতিক যুদ্ধ চালিয়ে এবং মনস্তাত্বিক প্রচারণা চালিয়ে জাতিগুলোর অধিকার পদদলিত করছে।

এভাবে বহু দেশকে তারা দুর্বল করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মানসিকতা থেকেই স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন সরকার শুধু নিজেরা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেই ক্ষান্ত হয়নি অন্য দেশকেও তাদের সহযোগী হতে উস্কানি দিচ্ছে।

ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক সমাজকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর যে চেষ্টা করছে তাতে যে কেবল ইরানই ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নয় একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপরও আঘাত। এ কারণে সব দেশের উচিত মার্কিন স্বেচ্ছাচারী আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং এর নিন্দা জানানো। কেননা ধীরে ধীরে এ ধরনের আচরণ করতে অন্যরাও উৎসাহিত হবে। ইরানের পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে মার্কিন আচরণ তাদের স্বেচ্ছাচারিতার একটি নমুনা।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাইডেন প্রশাসনও সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছে। তারা ইরানের সঙ্গে যে আচরণ করছে তা সমগ্র বিশ্বকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছে তাতে কেবল ইরানের জনগণই যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয় একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অবাধ বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ কারণে ভিয়েনায় জাতিসংঘের দফতরগুলোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, মার্কিন স্বেচ্ছাচারিতা মোকাবেলার একমাত্র উপায় হচ্ছে, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেলও একই কথা উল্লেখ করে বলেছেন, কোনো দেশের একবার পক্ষে এ ধরনের হুমকি রোধ করা সম্ভব নয়।

সূত্রঃ পার্সটুডে