মার্কিন নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা

মার্কিন নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেনের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ফিলিস্তিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। অ্যান্থনি ব্লিংকেন বলেছেন, তিনি পবিত্র আল-কুদস বা জেরুজালেম শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী মনে করেন।

মঙ্গলবার সিনেটের এক শুনানিতে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি জেরুজালেম শহরকে ইসরাইলের রাজধানী মনে করেন কিনা এবং ট্রাম্পের বিদায়ের পর জেরুজালেম শহরেই মার্কিন দূতাবাস রাখা হবে কিনা। জবাবে ব্লিংকেন দুইবার হ্যাঁ বলেন।

দীর্ঘদিনের অনুসৃত নীতি উপেক্ষা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেম শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেম শহরে স্থানান্তর করেন। ট্রাম্পের বিদায়ের পর সেই ধারা অব্যাহত থাকবে কিনা তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল, সেই প্রশ্নের অবসান ঘটালেন ব্লিংকেন।

তার এই ঘোষণার পর গাজাভিত্তিক ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, আন্তর্জাতিক যে সমস্ত আইন ও প্রস্তাবনার মাধ্যমে জেরুজালেম শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের হাতে দখল হয়ে যাওয়া শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ব্লিংকেনের বক্তব্য তার সাথে সম্পূর্ণভাবে সাংঘর্ষিক। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, এটি সমস্ত আরব জাতির জন্য আরেকটি প্রকাশ্য অপমান।

গাজাভিত্তিক ইসলামি জিহাদ আন্দোলনও বলেছে, যেসব দেশ বাইডেন প্রশাসনের কাছে নতুন কিছু প্রত্যাশা করছিল এই বক্তব্যের মধ্যদিয়ে মার্কিন প্রশাসন তাদের মুখে থাপ্পড় মেরেছে।

সংগঠনের মুখপাত্র দাউদ শিহাব বলেন, ব্লিংকেনের এই বক্তব্যের মধ্যদিয়ে আবার পরিষ্কার হলো যে, তারা দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইল সরকারকে সমর্থন করছে এবং তাদের নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এও পরিষ্কার হলো যে, ফিলিস্তিনিদেরকে দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হবে।

এদিকে, পশ্চিম তীরের আরেকটি রাজনৈতিক সংগঠন ফাতাহ আন্দোলনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ বলেছেন, এটি স্মরণ রাখা দরকার যে ১৯৯৫ সালে মার্কিন কংগ্রেস আল-কুদস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন এবং তার উত্তরসূরি জো বাইডেন কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে উল্টে দিতে পারবেন না। আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সেখানে মার্কিন কনস্যুলেট অফিস খোলার আহ্বান জানান যাতে আমেরিকার সঙ্গে কুটনৈতিক তৎপরতা শুরু করা যায়।