মাদারগঞ্জে বন্যায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

চলতি বছরের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে মাদারগঞ্জের কৃষিখাতের। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যে এ ক্ষতি পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা। তবে এমন ক্ষতির পর আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন উপজেলার কৃষক।

এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় মাদারগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকার সব অঞ্চল তলিয়ে যায়। তীব্র স্রোত আর নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিশাল এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, পাকা রাস্তা, বাঁধসহ ঘরবাড়ি।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মাহফুযুল ইসলাম জানান, এবারের বন্যায় উপজেলায় সাড়ে ১৮ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের আবাদি ৫ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমির রোপা আমণ বীজতলা, আউস, পাট, শাকসবজি, কলা, তিল, মরিচ তলিয়ে গেছে।

এর মধ্যে রোপা আমণ বীজতলা ৭৫০ হেক্টর, আউস ৭১৫ হেক্টর, পাট তিন হাজার তিনশ হেক্টর, তিল ১০ হেক্টর, কলা ১০ হেক্টর, মরিচ ১০ হেক্টর পানির নিচে তলিয়ে যায়। যার বাজার মূল্যে প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত কৃষি উপকরণসহ সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।

এদিকে রোপা আমণের বীজ সঙ্কটে পড়েছে হাজারও চাষী। তারা বন্যায় বীজতলা হারিয়ে আসন্ন রোপা আমণের শেষ সময়ে আমন চারার জন্য হন্নে হয়ে ঘুরছেন। আগের চেয়ে ৪/৫ গুন চড়া দামে তারা টাঙ্গাইলের পাহাড়ি এলাকা থেকে আমণ চারা সংগ্রহ করছেন।

মাদারগঞ্জ মেলান্দহ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় মাদারগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের সহযোগীতার জন্য পর্যাপ্ত কৃষি উপকরণ বিতরণসহ কৃষি পুর্ণবাসনের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সার, বীজ, আমনের চারা, কীটনাশক এবং সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদানে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একজন কৃষকও এই সহযোগিতা থেকে বাদ যাবে না। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে।