মসজিদে বিস্ফোরণ কেন কীভাবে ঘটল অবশ্যই বের করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জের তল্লা এলাকায় মসজিদে এসি বিস্ফোরণের কারণ খুঁজে বের করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগ ও গ্যাস কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি ক্যাবিনেট সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি এর কারণ খুঁজে বের করতে।

রোববার দুপুরে একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে সাহারা খাতুন ও ইসরাফিল আলমের ওপর আনিত শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি সেখানে গেছে। বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা সেখানে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনা কেন ঘটল, কীভাবে ঘটেছে; সে ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। সেটি অবশ্যই বের হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, সঙ্গে সঙ্গে আমাকে আমাদের বার্ন ইনস্টিটিউটের ডা. সামন্ত লাল মেসেজ পাঠিয়েছেন। সার্বক্ষণিক মেসেজ পাঠাচ্ছেন এবং রোগীদের অবস্থা জানাচ্ছেন।

অনেকেই মারা গেছেন, বাকি যারা বেশিরভাগের পোড়ার অবস্থা খারাপ তার পরও চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এটি খুবই দুঃখজনক নামাজ পড়া অবস্থায় মসজিদে বিস্ফোরণ।

সংসদ নেতা বলেন, ওইটুকু জায়গায় ৬টা এসি লাগানো। আবার খবর পাচ্ছি সেখানে গ্যাসলাইনের ওপরেই নাকি মসজিদটা নির্মাণ করা। সাধারণত যেখানে গ্যাসের পাইপলাইন থাকে, সেখানে নির্মাণকাজ হয় না।

জানি না রাজউক অনুমতি দিয়েছে কিনা, এখানে অনুমতি তো দিতে পারে না। দেয়া উচিত না। এটি সবসময় একটি আশঙ্কাজনক থাকে। সেটিই তদন্ত করে দেখা হবে যে কীভাবে হলো।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ কতটা নিতে পারবে সেই ক্যাপাসিটি ছিল কিনা, সার্কিট বেকার ছিল কিনা– সব বিষয় দেখতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে কিছু করতে গেলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বলেছি –বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংশ্লিষ্টদের প্রত্যেককে নির্দেশ দিয়েছি কারণ খুঁজে বের করার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের মসজিদগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে এসি লাগাচ্ছে বা যেখানে সেখানে মসজিদ গড়ে তুলছেন, সেখানে আদৌ মসজিদ করার জায়গা কিনা বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়া বা সেখানে নকশা করা হয়েছে কিনা; সেগুলো দেখা একান্ত প্রয়োজন। দুর্ঘটনা সত্যি খুবই দুঃখজনক। যারা মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভ কামনা করছি।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জের তল্লা এলাকায় মসজিদে এসি বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।