মন্ত্রিসভা গঠন করেই ফিলিস্তিন বিরোধী পদক্ষেপ: উগ্র ইহুদিদের পতাকা মিছিল নিয়ে টানটান উত্তেজনা

দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মাত্র একদিন পর এই মন্ত্রিসভা ফিলিস্তিন বিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তারা বায়তুল মোকাদ্দাস বা জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে আজ পতাকা মিছিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। কট্টর ইহুদিবাদী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী ও ফিলিস্তিনে ইসরাইলি অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রমের সমর্থকরা পতাকা মিছিল বের করার ডাক দিয়াছে।

কথা ছিল গত বৃহস্পতিবার ইহুদিবাদীরা পতাকা মিছিল বের করবে। কিন্তু ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলনসহ অন্যান্য প্রতিরোধকামী সংগঠনগুলোর হুমকির কারণে ওই মিছিল বের করা থেকে উগ্র ইহুদিবাদীরা বিরত থাকে।

এরপর ইসরাইলের নতুন মন্ত্রিসভা এ ধরনের পতাকা মিছিলের অনুমতি দেয়ার পর আবারও তারা বাইতুল মুকাদ্দাস এলাকায় মিছিল করার পদক্ষেপ নিয়েছে। উগ্র ইহুদিবাদীরা পতাকা মিছিল বের করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদেরকে সমূলে উৎখাতের আহ্বান জানাবে বলে কথা রয়েছে।

প্রথম কথা হচ্ছে, দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মূলনীতি নির্ধারণে বর্ণবাদ এবং উগ্রবাদী চেতনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই নীতি বা চেতনা ইসরাইলের নতুন মন্ত্রিসভার জন্য সংকট হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদেরকে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, ফিলিস্তিনের নতুন মন্ত্রিসভা উগ্র ইহুদিবাদীদেরকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পতাকা মিছিল বের করার জন্য যে অনুমতি দিয়েছে তার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলো কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

এতে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে ইসরাইলের দৈনিক হারেতজ লিখেছে, ‘গাজা পরিস্থিতি এখনো থমথমে হয়ে আছে এবং ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের কমান্ডাররা হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, ‘ইসরাইলের যেকোনো ক্ষুদ্র ভুলের প্রতিশোধ নিতে বড় ধরনের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে তারা। এ অবস্থায় ইহুদিদের পতাকা মিছিল আরেকটি যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।

এদিকে, উগ্র ইহুদিবাদীদের পতাকা মিছিলের মোকাবেলায় ফিলিস্তিনিদেরকে মসজিদুল আকসায় সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলন। সংগঠনটি বলেছে, ‘পতাকা মিছিল আয়োজন উস্কানিমূলক ও বিপদজনক পদক্ষেপ।

১৯৪৮ সালের ভূখণ্ড, পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমের ফিলিস্তিনিকে মসজিদুল আকসায় আসতে অনুরোধ করেছে তারা।’ হামাসও আলাদা এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে সহিংসতা শুরুর আশঙ্কা ব্যক্ত করে সবাইকে বায়তুল মুকাদ্দাসে উপস্থিত থাকতে আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধের সংগঠনগুলোর হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইল তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ গাজা সীমান্তের আরো কাছে মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরাইলের নতুন মন্ত্রিসভা তাদের কার্যক্রম শুরুর একই সঙ্গে যুদ্ধংদেহী মনোভাব প্রদর্শন করেছে যা কিনা ইসরাইলের নতুন মন্ত্রিসভাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

কেননা নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে যে যৌথ মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব এই দুই নেতার হাতে ধারাবাহিকভাবে অর্পিত হবে আর বিভিন্ন বিষয়ে এই দুই নেতার মধ্যে পরস্পর বিরোধী অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। ইসরাইলের নতুন যৌথ মন্ত্রিসভায় ডানপন্থী, বামপন্থী, সেক্যুলার, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং আরব ও ইহুদিদের উপস্থিতি রয়েছে।

এ কারণে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইসরাইলের নতুন মন্ত্রিসভা খুব বেশিদিন টিকবে না বলে মনে করছেন এবং অদূর ভবিষ্যতে আবারও নির্বাচন দিতে হতে পারে। এ অবস্থায় তারা যদি নতুন করে কোন যুদ্ধ বা সঙ্কটের দিকে পা বাড়ায় তাহলে ইসরাইলের নতুন এই মন্ত্রিসভার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে পতাকা মিছিলের অনুমতি দিয়ে ইসরাইলের নতুন মন্ত্রিসভা প্রমাণ করেছে তাদের মৌলিক নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি কেবল নেতানিয়াহু তার পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

সূএঃ পার্সটুডে